৪ বছর ধরে চলমান রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে সাময়িক স্বস্তির ইঙ্গিত দিয়ে ৩২ ঘণ্টার যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। মূলত অর্থোডক্স ইস্টার উদযাপন উপলক্ষে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বার্তাসংস্থা রয়টার্সের বরাত দিয়ে জানা যায়, শনিবার (১০ এপ্রিল) বিকেল থেকে শুরু হয়ে রবিবার (১১ এপ্রিল) মধ্যরাত পর্যন্ত এ যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকবে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিও নিশ্চিত করেছেন, তার দেশ এ সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে যুদ্ধবিরতি পুরোপুরি মেনে চলবে।
ক্রেমলিনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, রুশ প্রতিরক্ষামন্ত্রী আন্দ্রেই বেলোসভ ও সেনাপ্রধান ভ্যালেরি গেরাসিমভকে সব ফ্রন্টে সামরিক অভিযান সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে যেকোনো ধরনের সম্ভাব্য উসকানি মোকাবিলায় রুশ সেনাদের সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থায় প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে। এ বিষয়ে প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি জানান, ইউক্রেন আগেই ইস্টার উপলক্ষে যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দিয়েছিল এবং এখন সেই অনুযায়ী তারা নিজেদের দিক থেকে পদক্ষেপ নেবে। হুমকিমুক্ত একটি ইস্টার প্রকৃত শান্তির পথে অগ্রসর হওয়ার সুযোগ তৈরি করতে পারে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
তবে এ যুদ্ধবিরতির স্থায়িত্ব নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে যথেষ্ট সংশয় রয়েছে। গত বছরও একই ধরনের স্বল্পমেয়াদি যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল, যেখানে পরবর্তীতে উভয় পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলেছিল। ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ স্পষ্ট করেছেন, এ সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আগাম কোনো আলোচনা করা হয়নি এবং এটি কোনো ত্রিপক্ষীয় শান্তি আলোচনার অংশও নয়। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনায় বৈশ্বিক পরিস্থিতি যখন ক্রমেই জটিল আকার ধারণ করছে। এ পরিস্থিতিতে দীর্ঘ ৪ বছরের রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ক্ষণিকের যুদ্ধবিরতিকে বিশ্ববাসী কেবল একটি সাময়িক স্বস্তি হিসেবেই বিবেচনা করছে।
তথ্যসূত্র: রয়টার্স
ডিবিসি/এএমটি