তুরস্কের ড্রোন ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানি 'বায়কার' জানায় যে, গতকাল ২রা মে তাদের তৈরি নতুন প্রজন্মের বায়রাক্তার টিবি-৩ কমব্যাট ড্রোনের সফল ফ্লাইট টেস্ট সম্পন্ন করা হয়। এই প্রথম তুরস্কের নিজস্ব প্রযুক্তির তৈরি ইঞ্জিন ব্যবহার করে টিবি-৩ কমব্যাট (ইউসিএভি) ড্রোনের সফল পরীক্ষা চালানো হলো। সর্বশেষ এই ৩৪তম ও ৩৫তম ফ্লাইট টেস্টে ড্রোনটি ভূমি থেকে ৩৩ হাজার ফুট উচ্চতায় উড্ডয়ন করে এক নতুন রেকর্ড সৃষ্টি করে।
মূলত তুর্কি 'বায়কার' কোম্পানি বায়রাক্তার টিবি-২ কমব্যাট ড্রোনের উপর ভিত্তি করে আরো আপগ্রেড এবং নিজস্ব প্রযুক্তির তৈরি ইঞ্জিন দ্বারা সজ্জিত করে টিবি-৩ কমব্যাট (ইউসিএভি) ডিজাইন ও তৈরি করেছে। নতুন সিরিজের এই কমব্যাট ড্রোনটি আকাশের অধিক উচ্চতায় ও দীর্ঘক্ষণ উড্ডয়ন করতে সক্ষম। বায়কার কোম্পানি এর প্রথম সফল ফ্লাইট টেস্ট সম্পন্ন করে গত ২০২৩ সালের ২৭শে অক্টোবর।
তুর্কি বায়কার কোম্পানি আসলে গত বৃহস্পতিবার তুরস্কের উত্তর পশ্চিম অঞ্চলের তেকিরদাগ প্রদেশের কোরলু জেলার আকেনসি (AKINCI) ফ্লাইট প্রশিক্ষণ ও পরীক্ষা কেন্দ্রে এই কমব্যাট ড্রোনের সফল পরীক্ষাটি সম্পন্ন করে। তার পাশাপাশি এই প্রথম বার এই সিরিজের ড্রোনে ব্যবহার করা হয়েছে একটি উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন দেশীয় (TUSAŞ Engine Industries Inc.) কোম্পানির তৈরি পিডি-১৭০ ইঞ্জিন।
বায়রাক্তার টিবি-৩ কমব্যাট ড্রোন শুরু থেকে এখনো পর্যন্ত আকাশে ৩২৭ ঘণ্টা ৩৫ মিনিট পরীক্ষামূলক উড্ডয়ন সম্পন্ন করেছে। যার মধ্যে গত ২০২৩ সালের ২০শে ডিসেম্বর এটি আকাশে ৫,৭০০ কিলোমিটার জুড়ে একটানা ৩২ ঘণ্টা উড্ডয়ন করে এক বিরল রেকর্ড সৃষ্টি করে। তাছাড়া এটি গত ২৬শে মার্চে উচ্চ প্রযুক্তির (ASELFLIR-500) ইলেক্ট্রো-অপটিক্যাল রিকর্নিসেন্স, সার্ভেল্যান্স ও টার্গেটিং সিস্টেম সাথে নিয়ে পরীক্ষামূলক নজরদারি মিশন পরিচালনা করে।
এই কমব্যাট ড্রোনের দৈর্ঘ্য ৮.৩৫ মিটার, উচ্চতা ২.৬ মিটার এবং ইউং স্প্যান ১৪ মিটার। এর ম্যাক্সিমাম টেক অফ ওয়েট ১,৪৫০ কেজি এবং ম্যাক্সিমাম পে-লোড ক্যাপাসিটি ২৮০ কেজি। এর অপারেশনাল রেঞ্জ ১,৯০০ কিলোমিটার, ম্যাক্সিমাম স্পিড প্রতি ঘণ্টায় ৩০০ কিলোমিটার এবং ক্রুইজ স্পিড প্রতি ঘণ্টায় ২৩২ কিলোমিটার।
অস্ত্র হিসেবে এই ড্রোনের ৬টি হার্ড পয়েন্টে মোট ২৮০ কেজি পর্যন্ত মিসাইল, লেজার গাইডেড এন্ড আন-গাইডেড স্মার্ট মিউনিশন বহন করে। মিসাইলের মধ্যে রকেটসানের তৈরি ৭০ এমএম মিসাইলের পাশাপাশি এমএএম-সি/ এমএএম-এল এবং এমএএম-সি প্রিসিয়েন্স গাইডেড মিউনিশন সিস্টেম বহন করতে পারে। তাছাড়া লেজার গাইডেড রকেট এবং এয়ার টু সারফেস লঞ্চড ৮১ এমএম মর্টার মিউনিশন বহন করতে পারে এটি।
মাল্টি-মোড (এইএসএ) রাডার সজ্জিত এই কমব্যাট ড্রোনে এভিয়নিক্স সিস্টেম হিসেবে ইন্টারচ্যেঞ্জেবল ইও/ আইআর/ এলডি ইমেজিং এন্ড টার্গেটিং সেন্সর সিস্তেম ব্যবহার করা হয়েছে। তাছাড়া এটিতে ব্যবহার করা হয়েছে উচ্চ প্রযুক্তির (ASELFLIR-500) ইলেক্ট্রো-অপটিক্যাল রিকর্নিসেন্স, সার্ভেল্যান্স ও টার্গেটিং সিস্টেম ইনস্টল করা হয়েছে। যা দ্বারা অধিক উচ্চতা থেকে নিখুঁতভাবে ভূমি না সাগরের বুকে থাকা শত্রু পক্ষের টার্গেট শনাক্ত কিংবা নজরদারি মিশন পরিচালনা করতে সক্ষম।
এই কমব্যাট (ইউসিএভি) ড্রোনটিকে একেবারে স্বল্প দৈর্ঘ্যের রানওয়ে থেকে টেক অফ এন্ড ল্যান্ডিং করার উপযোগী করে ডিজাইন করা হয়েছে। বিশেষ করে তুরস্কের নিজস্ব প্রযুক্তির তৈরি টিসিজি আনাদুলু একমাত্র (ফ্লাগশীপ) ক্যারিয়ার জাহাজে অপারেট করার বিষয়টি মাথায় রেখে এটিকে তৈরি করা হয়। এটি এখনো পর্যন্ত সার্ভিসে না আসলেও চলতি ২০২৪ সালের মধ্যেই তুরস্কের নৌবাহিনীর হাতে তুলে দেওয়ার পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে দেশটি।
বর্তমানে তুরস্কের সবচেয়ে সফল ও যুদ্ধ পরীক্ষিত কমব্যাট ড্রোন হচ্ছে বায়রাক্তার টিবি-২ এবং ‘আকেনসি’ কমব্যাট ড্রোন। টিবি-২ কমব্যাট ড্রোন তুরস্কের সামরিক বাহিনীর পাশাপাশি বিশ্বের ৩৩টি দেশের রপ্তানি করা হয়েছে। অন্যদিকে ‘আকেনসি’ কমব্যাট ড্রোন মোট ৯টি দেশে রপ্তানি করা হয়েছে। তাছাড়া দেশটি গত ২০২৩ সালে রেকর্ড পরিমাণে মোট ৫.৫ বিলিয়ন ডলার মূল্যের ওয়েপন্স এন্ড ডিফেন্স সিস্টেম সারা বিশ্বে রপ্তানি করে। যা ছিল কিনা তুরস্কের জন্য এক মাইলফলক অর্জন।
ডিবিসি/ এসএসএস