বর্তমান স্ত্রী ও বিবাহ বলবৎ থাকা অবস্থায় সালিশি কাউন্সিলের লিখিত পূর্বানুমতি ছাড়া কোনো পুরুষ আরেকটি বিয়ে করতে পারবেন না। মুসলিম পারিবারিক আইনের এই বিধানটি বহাল রেখে রায় ঘোষণা করেছেন হাইকোর্ট। এ সংক্রান্ত জারি করা রুল খারিজ করে বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি সৈয়দ জাহেদ মনসুরের হাইকোর্ট বেঞ্চ এই সিদ্ধান্ত জানান।
মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১ এর বহু বিবাহ সংক্রান্ত ৬ ধারায় বলা হয়েছে–
(১) কোনো ব্যক্তির বিবাহ বলবৎ থাকিতে সে সালিশি কাউন্সিলের লিখিত পূর্বানুমতি ব্যতীত কোনো বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হইতে পারিবে না বা ঐরূপ অনুমতি ছাড়া অনুষ্ঠিত কোনো বিবাহ ১৯৭৪ সনের মুসলিম বিবাহ ও তালাক (রেজিস্ট্রেশন) আইনের অধীনে নিবন্ধিত হইবে না।
(২) ১ নম্বর উপধারা অনুযায়ী অনুমতির দরখাস্ত নির্ধারিত ফিসহ চেয়ারম্যানের নিকট নির্দিষ্ট দফতরে দাখিল করিতে হইবে এবং উহাতে প্রস্তাবিত বিবাহের কারণসমূহ এবং এই বিবাহের ব্যাপারে বর্তমান স্ত্রী অথবা স্ত্রীগণের সম্মতি লওয়া হইয়াছে কিনা, উহার উল্লেখ থাকিবে।
(৩) ২ নম্বর উপধারা অনুযায়ী দরখাস্ত গ্রহণ করিবার পর চেয়ারম্যান আবেদনকারীকে ও বর্তমান স্ত্রী অথবা স্ত্রীগণের প্রত্যেককে একজন করিয়া প্রতিনিধি মনোনীত করিতে বলিবেন। উক্তরূপে গঠিত সালিশি কাউন্সিল প্রস্তাবিত বিবাহ প্রয়োজনীয় ও ন্যায়সংগত বলিয়া মনে করিলে এবং যুক্তিসংগত বলিয়া মনে হইতে পারে এমন সব শর্ত থাকিলে তৎসাপেক্ষে প্রার্থির আবেদন মঞ্জুর করিতে পারেন।
(৪) দরখাস্তের বিষয় নিষ্পত্তি করিবার নিমিত্ত সালিশি কাউন্সিল নিষ্পত্তির কারণটি লিপিবদ্ধ করিবেন। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে যে কোনো পক্ষ নির্দিষ্ট ফিস প্রদানক্রমে নির্দিষ্ট দফতরে সংশ্লিষ্ট সহকারী জজের নিকট পুনর্বিবেচনার নিমিত্ত দরখাস্ত দাখিল করিতে পারে; তার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হইবে এবং কোনো আদালতে এই সম্বন্ধে প্রশ্ন উত্থাপন করা যাইবে না।
(৫) কোনো ব্যক্তি যদি সালিশি কাউন্সিলের অনুমতি ছাড়া অন্য বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়, তবে সে– ক) বর্তমান স্ত্রী অথবা স্ত্রীগণের তলবি ও স্থগিত দেনমোহরের সম্পূর্ণ টাকা তৎক্ষণাৎ পরিশোধ করিতে হইবে। উক্ত টাকা উক্তরূপে পরিশোধ না করা হইলে বকেয়া ভূমি রাজস্বরূপে আদায়যোগ্য হইবে; এবং খ) অভিযোগে অপরাধী সাব্যস্ত হইলে এক বৎসর পর্যন্ত বিনাশ্রম কারাদণ্ড অথবা দশ হাজার টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ড বা উভয় প্রকার দণ্ডনীয় হইবে।
মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০২২ সালের ৫ জানুয়ারি হাইকোর্ট একটি রুল জারি করেছিলেন। সেই রুলে জানতে চাওয়া হয়েছিল যে, পারিবারিক জীবন ও সংসারের সুরক্ষার স্বার্থে বহুবিবাহ আইনের বিষয়ে কেন সুনির্দিষ্ট নীতিমালা প্রণয়ন করা হবে না। একইসঙ্গে স্ত্রীদের মধ্যে সমঅধিকার নিশ্চিত না করে আইন অনুযায়ী বহুবিবাহের অনুমতির প্রক্রিয়াটি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তাও জানতে চেয়েছিলেন আদালত।
দীর্ঘ শুনানি শেষে গত বছরের ২০ আগস্ট হাইকোর্ট উক্ত রুলটি খারিজ করে দেন। ফলে মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১-এর বহুবিবাহ সংক্রান্ত ধারাটি বহাল রইল। অর্থাৎ যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া ও অনুমতি ছাড়া দ্বিতীয় বিয়ের সুযোগ নেই।
ডিবিসি/এফএইচআর