কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল কাইয়ুমকে আটকের প্রতিবাদে বন্ধ থাকার পর শহরতলীর শাসনগাছা টার্মিনাল থেকে বাস চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে। প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টা পর রবিবার (৩ মে) বেলা সাড়ে তিনটার দিকে টার্মিনাল থেকে ঢাকাসহ বিভিন্ন গন্তব্যে বাস চলাচল শুরু হয়।
এদিকে, বিকেল ৬টায় এ প্রতিবেদন লেখার সময় আটক বিএনপি নেতা রেজাউল কাইয়ুম কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানা-পুলিশের হেফাজতে রয়েছেন। থানার ওসির কক্ষে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তাঁকে আটকের প্রতিবাদে বিএনপি নেতা-কর্মী ও সমর্থকেরা এখনো থানার সামনে অবস্থান করছেন। প্রধান ফটকের সামনে দাঁড়িয়ে রেজাউলের মুক্তির দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দিচ্ছেন তাঁরা।
বিএনপি নেতা রেজাউল কাইয়ুমকে আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করা হলেও ঠিক কী কারণে তাঁকে আটক করা হয়েছে, সেটি আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়নি পুলিশ। তবে একাধিক সূত্র জানায়, সরকারের উচ্চপর্যায়ের নির্দেশে রেজাউলকে আটক করা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে কুমিল্লার অন্যতম বৃহৎ শাসনগাছা বাস টার্মিনালে চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ রয়েছে। তাঁর বাড়িও ওই বাস টার্মিনালের অদূরে।
রবিবার দুপুর ১২টায় শাসনগাছা এলাকার বাসা থেকে কোতোয়ালি মডেল থানা ও জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) সদস্যরা রেজাউলকে থানায় নিয়ে আসেন। এই ঘটনার প্রতিবাদে শাসনগাছা বাস টার্মিনাল অবরোধ করেন বিভিন্ন পরিবহনের চালক ও শ্রমিকেরা। এতে টার্মিনাল থেকে কুমিল্লা-ঢাকা, কুমিল্লা-সিলেটসহ বেশ কয়েকটি রুটে বাস চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরে বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে টার্মিনাল থেকে বাস চলাচল স্বাভাবিক হয় বলে জানান স্থানীয়রা।
এ বিষয়ে আদর্শ সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সফিউল আলম রায়হান বলেন, ‘পুলিশের পক্ষ থেকে আমাদের বলা হয়েছে, জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আমাদের সভাপতিকে থানায় আনা হয়েছে; জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ছেড়ে দেওয়া হবে। তিনি যেহেতু আমাদের সভাপতি, এজন্য আমরা সাংগঠনিক কারণে থানায় এসেছি। তবে তাঁকে কেন থানায় আনা হয়েছে, সেটি আমরা জানি না। বাস টার্মিনালের কোনো বিষয়ে তিনি যুক্ত নন। শ্রমিকেরা তাঁকে ভালোবেসে বাস চলাচল বন্ধ করে দিয়েছিলেন। আমরা কথা বলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করেছি।’
যোগাযোগ করা হলে কোতোয়ালি থানার ওসি তৌহিদুল আনোয়ার বলেন, ‘সিনিয়র অফিসারদের নির্দেশে রেজাউলকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে থানায় আনা হয়েছে। ঠিক কী কারণে আটক করা হয়েছে, সেটা সিনিয়র অফিসাররা ভালো বলতে পারবেন। সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার স্যারসহ অন্যরা তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করছেন। তবে এখনো তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়নি।’
ডিবিসি/কেএলডি