প্রায় সাড়ে ৩শ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত লালমনিরহাটের দ্বিতীয় তিস্তা ও দ্বিতীয় ধরলা সেতুর সুফল পাচ্ছে না মানুষ।
উদ্বোধনের প্রায় তিন বছর পরও নানা সীমাবদ্ধতায় সেতু দুটির ওপর দিয়ে শুরু হয়নি ভারী যান চলাচল। ফলে ঘুরতে হচ্ছে বাড়তি পথ। গুণতে হচ্ছে অতিরিক্ত ভাড়া। ভোগান্তিতে যাতায়াতকারীরা।
লালমনিরহাটের চার উপজেলা ও বুড়িমারী স্থলবন্দরের সাথে রংপুরের সড়ক পথে যোগাযোগ সহজ করতে তিস্তা নদীর ওপর নির্মাণ করা হয় গঙ্গাচড়া শেখ হাসিনা সড়ক সেতু। ২০১২ সালে প্রায় ১২২ কোটি টাকা ব্যয়ে এই সেতুটি নির্মাণ করা হয়। সেতুটি দিয়ে বাস চলাচল শুরু না হওয়ায়, সুফল পাচ্ছে না মানুষ।
সংশ্লিষ্টদের দাবি, দুর্বল সংযোগ সড়ক ও রংপুর শহরে বাইপাস সড়কের অভাবে ভারী যান চলাচল সম্ভব হচ্ছে না। জেলা মটর মালিক সমিতির সভাপতি সিরাজুল হক বলেন,'বালুর ওপর যে রাস্তাটা আছে, সেদিক দিয়ে বাস চলাচল সম্ভব হচ্ছে না। বাস চলতে শুরু করলে ট্রাক আটকানো যাবে না। আরেকটি বিষয় হচ্ছে, রংপুর বাইপাস রাস্তাটি এখনও হয়নি।'
রংপুর এলজিইডি নির্বাহী প্রকৌশলী রেজাউল হক বলেন,'সংসদ সদস্য মসিউর রহমান রাঙ্গা আছেন সংসদ সদস্য ওনার সঙ্গে কথা বলেন। এ বিষয়ে আমি কিছু বলতে পারবো না। সর্ব সাধারণের জন্য ওপেন করবে না।'
একই সময়ে কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী, নাগেশ্বরী ও ভূরুঙ্গামারীর সাথে লালমনিরহাট ও রংপুরের যোগাযোগের জন্য কুলাঘাটে ধরলা নদীতে নির্মাণ করা হয় দ্বিতীয় ধরলা সড়ক সেতু। ৯৫০ মিটার দৈর্ঘ্যের সেতুটি নির্মাণে ব্যয় হয় ২০৬ কোটি ৮৫ লাখ ১৯ হাজার টাকা। কিন্তু এখানেও বাধা একই সড়কের একটি ঝুঁকিপূর্ণ বেইলি ব্রিজ।
সমস্যা সমাধানে প্রকল্প প্রস্তাবনার কথা জানিয়েছে, সড়ক ও জনপথ বিভাগ। লালমনিরহাট সড়ক ও জনপথ বিভাগ নির্বাহী প্রকৌশলী মাহবুব আলম বলেন,'যেহেতু অনেকগুলো ব্রিজ এটার সঙ্গে জড়িত, সেহেতু প্রকল্প অনুমোদন হবে খুব দ্রুত। ভূমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া শেষ করে এটার বাস্তবায়ন সম্ভব হবে।'
স্থানীয়রা বলছেন, দুটি সেতুর ওপর দিয়ে ভারী যান চলাচল শুরু হলে, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের পাশাপাশি পরিবর্তন হবে আর্থ-সামাজিক অবস্থার।