কক্সবাজারের টেকনাফ সীমান্তে বিজিবির পৃথক তিন অভিযানে ৪ লাখ ৫০ হাজার ইয়াবা ও ৩ কেজি ক্রিস্টাল মেথ আইস সহ মিয়ানমারের এক নাগরিক আটক।
রোববার মধ্যরাত থেকে সোমবার সকাল পর্যন্ত নাফ নদীর বিভিন্ন সীমান্ত এলাকায় এ অভিযান চালানো হয়েছে।
বিজিবির উখিয়া ৬৪ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. জহিরুল ইসলাম জানিয়েছেন, রোববার মধ্যরাত ১ টার দিকে টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা ইউনিয়নের নাফ নদীর মৌলভীবাজার সীমান্ত দিয়ে মাদকের বড় একটি চালান পাচারের খবরে বিজিবির একটি দল অভিযান চালায়। এক পর্যায়ে মিয়ানমার দিক থেকে বস্তা মাথায় নিয়ে সন্দেহজনক ৩ ব্যক্তিকে আসতে দেখে বিজিবির সদস্যরা থামার জন্য নির্দেশ দেন। এতে বিজিবির সদস্যদের উপস্থিতি টের পেয়ে লোকগুলো পালানোর চেষ্টা চালায়। এসময় বিজিবির সদস্যরা ফাঁকা গুলি ছুঁড়লে লোকগুলো সাথে ৩ টি বস্তা ফেলে রেখে পালিয়ে যায়।
তিনি জানান, পরে ঘটনাস্থলে তল্লাশী করে ৩ টি বস্তা পাওয়া যায়। পরে বস্তাগুলো খুলে পাওয়া যায় ৪ লাখ ইয়াবা।
এদিকে সোমবার সকাল ৭ টার দিকে টেকনাফে নাফ নদীর সাবরাং সীমান্তে পৃথক অভিযান চালিয়ে ৩ কেজি ক্রিস্টাল মেথ আইস সহ মিয়ানমারের এক নাগরিককে আটকরা হয়েছে বলে জানান, বিজিবির টেকনাফ ২ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. হানিফুর রহমান।
আটক শাহ আলম (৫০) মিয়ানমারের রাখাইন রাখাইন রাজ্যের মংডু এলাকার বাসিন্দা।
লে. কর্নেল হানিফুর রহমান বলেন,.রোববার মধ্যরাতে টেকনাফে সাবরাং এলাকায় বিজিবির সদস্যরা প্রযুক্তির সহায়তায় নাফ নদীর জলসীমার শূণ্যরেখা অতিক্রম করে মিয়ানমার দিক সন্দেহজনক একটি নৌকা প্রবেশ করতে দেখে। এরপর থেকে বিজিবির সদস্যরা নৌকাটির উপর নজরদারি অব্যাহত রাখে।
এক পর্যায়ে সকাল ৭ টার দিকে নৌকাটি বাংলাদেশের জলসীমায় প্রবেশ করলে বিজিবির সদস্যরা থামার জন্য নির্দেশ দেন। এতে বিজিবির সদস্যদের উপস্থিতি টের পেয়ে নৌকায় থাকা ৩ জন লোক নদীতে ঝাঁপ দিয়ে মিয়ানমার অভ্যন্তরে পালিয়ে যায়। এসময় নৌকায় এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে।
পরে নৌকাটি তল্লাশী চালিয়ে কুঠুরিতে বিশেষ কৌশলে লুকিয়ে রাখা অবস্থায় ৩ ক্রিস্টাল মেথ আইস পাওয়া যায় বলে জানান তিনি।
অন্যদিকে সোমবার ভোররাতে টেকনাফে হ্নীলা ইউনিয়নের নাফ নদীর লেদা এলাকায় পৃথক আরেক অভিযানে ৫০ হাজার ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে জানান, লে. কর্নেল মো. হানিফুর রহমান।
তিনি বলেন, ভোররাতে নাফ নদীর লেদা এলাকায় মাদকের বড় একটি চালান পাচারের খবরে বিজিবির একটি দল অভিযান চালায়। এক পর্যায়ে একটি নৌকা যোগে সন্দেহজনক ৩ ব্যক্তিকে আসতে দেখে বিজিবির সদস্যরা থামার জন্য নির্দেশ দেন। এতে বিজিবির সদস্যদের উপস্থিতি টের পেয়ে লোকগুলো কেওড়া বাগানে নৌকাটি ফেলে রেখে নদী সাঁতরে মিয়ানমার দিকে পালিয়ে যায়।
পরে নৌকাটি তল্লাশী চালিয়ে মাছের ঝুড়িতে রাখা ৫০ হাজার ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানান. লে. কর্নেল হানিফুর রহমান।
বিজিবির সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, পৃথক অভিযানে উদ্ধারকৃত মাদকদ্রব্য, জব্দকৃত আলামত এবং আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট আইনে আইনানুগ কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
ডিবিসি/ আরএফই