রাজবাড়ীর ঘটনা

সিজারের সময় পেটে দেড় কেজি গজ রেখে সেলাই, ১ মাস পর নারীর মৃত্যু

রাজবাড়ী প্রতিনিধি

ডিবিসি নিউজ

২ ঘন্টা আগে
Facebook NewswhatsappInstagram NewsGoogle NewsYoutube

ফরিদপুর সমরিতা হাসপাতালে সিজারিয়ান অপারেশনের সময় পেটে দেড় কেজি গজ রেখে সেলাইয়ের এক মাস ২০ দিন পর কনিকা মণ্ডল (৩৫) নামে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। তিনি রাজবাড়ী জেলার বালিয়াকান্দি উপজেলার বহরপুর ইউনিয়নের বাগুটিয়া গ্রামের অশান্ত মণ্ডলের স্ত্রী। বুধবার (১৯ আগস্ট) দিবাগত রাত সোয়া ২টার দিকে ঢাকার কল্যাণপুরের ইবনে সিনা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

নিহতের স্বামী অশান্ত মণ্ডল বলেন, গত ২৯ জুন কনিকাকে ফরিদপুর সমরিতা হাসপাতালে সিজারিয়ানের জন্য ভর্তি করা হয়। ওই দিন সন্ধ্যায় ডা. লক্ষ্মী রানী দত্ত সিজারিয়ানের মাধ্যমে তার কন্যাসন্তান প্রসব করান। কিন্তু পরদিনই কনিকার পেট ফুলে যায়। অবস্থার অবনতি হলে গত ৩ জুলাই তাকে ঢাকার কল্যাণপুর ইবনে সিনা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে ডা. আব্দুল জলিলের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ৭ জুলাই পরীক্ষার মাধ্যমে জানা যায়, তার পেটে প্রায় দেড় কেজি গজ রেখে সেলাই দেওয়া হয়েছে। ওই দিনই সেখানে পুনরায় অপারেশনের মাধ্যমে গজ বের করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থাতেই বুধবার (১৯ আগস্ট) দিবাগত রাত সোয়া ২টার দিকে কনিকা মৃত্যুবরণ করেন।


নিহতের স্বামী অশান্ত মণ্ডল বলেন, ‘এখন আমি দুই মাসের সন্তান নিয়ে কীভাবে বাঁচব! ডাক্তারের অবহেলাতেই আমার স্ত্রীর মৃত্যু হয়েছে, আমি এর সুষ্ঠু বিচার দাবি করছি।’


তিনি আরও জানান, চিকিৎসক লক্ষ্মী রানী দত্ত তার হোয়াটসঅ্যাপে মেসেজ দিয়ে লেখেন, ‘দাদা নমস্কার। ভালো থাকুন, ঈশ্বরের কাছে সেই প্রার্থনা করি। সব কথার আগে করজোড়ে ক্ষমাপ্রার্থী। ভুল মানুষেরই হয়, অনেক ঝামেলার ভেতর থেকে আমি ভুল করে ফেলেছি। আমি বারবার ক্ষমাপ্রার্থী আপনার কাছে। অনেক কষ্টে আছি, আবারও ক্ষমা চাচ্ছি দাদা।’


এ বিষয়ে ডা. লক্ষ্মী রানী দত্তের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ‘আমার খেয়াল নেই, একটু পরে ফোন দিচ্ছি’ বলে কলটি কেটে দেন। পরে আবারও যোগাযোগ করা হলেও তিনি আর ফোন রিসিভ করেননি।


ডিবিসি/ এসভিএন

আরও পড়ুন