সিরাজগঞ্জে ডাকাত দলের পাঁচ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে কামারখন্দ থানা-পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন থানায় ডাকাতি, চুরি, অপহরণ ও মুক্তিপণ আদায়ের একাধিক মামলা রয়েছে।
সোমবার (১৫ জুন) সন্ধ্যায় কামারখন্দ থানা-পুলিশ সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
পুলিশ জানায়, রবিবার (১৪ জুন) রাত ১টা থেকে পরদিন বিকেল ৪টা পর্যন্ত নাটোরের সিংড়া ও সিরাজগঞ্জের বেলকুচি এলাকায় টানা অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন-সাদেক আলী ওরফে মোকাদ্দেস (৬২), হৃদয় হাসান (২৬), মো. সুজন (৩১), মো. আরিফুল ইসলাম ওরফে সবুজ (৩১) এবং মো. ইমদাদুল হক (৪৩)। এ ছাড়া একই অভিযানে ওয়ারেন্টভুক্ত পলাতক আসামি জয়নব খাতুন নামের এক নারীকেও আটক করা হয়েছে।
পুলিশ রেকর্ড অনুযায়ী, গ্রেপ্তারকৃত সুজনের বিরুদ্ধে ১৩টি, হৃদয় হাসানের বিরুদ্ধে ৭টি এবং সাদেক আলী, আরিফুল ইসলাম ও ইমদাদুল হকের বিরুদ্ধে ৫টি করে ডাকাতি ও চুরির মামলা রয়েছে।
পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সাদেক আলী কামারখন্দের টিটিসি এলাকায় সংঘটিত ডাকাতির ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। এ ছাড়া চক্রটি নাটোর সুগার মিল, রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলার কেশরহাট কোল্ড স্টোরেজ, মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলার একটি পলিথিন কারখানাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ডাকাতির সাথে জড়িত বলে তথ্য দিয়েছে।
জিজ্ঞাসাবাদে আরও জানা যায়, হৃদয় হাসান, সুজন ও ইমদাদুল হক এর আগেও নাটোর সুগার মিল, কেশরহাট কোল্ড স্টোরেজ, গোদাগাড়ী ও ধামরাই এলাকায় ডাকাতি মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। জামিনে বের হয়ে তারা আবারও একই অপরাধে জড়িয়ে পড়েন।
পুলিশের তথ্যমতে, এই চক্রটির অপরাধের কৌশল ছিল ভিন্ন। তারা নিজেদের নামে ডাউন পেমেন্টে কেনা ছোট পিকআপ ভ্যান ব্যবহার করে বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠানে প্রবেশ করতেন। এরপর সেখানে দায়িত্বরতদের দেশীয় অস্ত্রের মুখে জিম্মি ও ভয়ভীতি দেখিয়ে বৈদ্যুতিক সাবস্টেশনে ব্যবহৃত মূল্যবান তামার তার ও যন্ত্রাংশ লুট করে পালিয়ে যেতেন।
কামারখন্দ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাশমত আলী জানান, গ্রেপ্তারকৃত আসামিরা কামারখন্দ উপজেলার চৌবাড়ি কৃষ্ণপুর এলাকার বন্ধ হয়ে যাওয়া ফেন্সি মিল্ক অ্যান্ড অ্যাগ্রো ফ্যাক্টরিতে সংঘটিত ডাকাতির বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন। এ ঘটনায় তদন্ত ও বাকিদের আটকে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
ডিবিসি/এসএফএল