সিরিয়ার ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদ সরকারের সাবেক শীর্ষ ধর্মীয় নেতা ও গ্র্যান্ড মুফতি আহমাদ বদরউদ্দিন হাসুনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন দামেস্কের একটি আদালত। ১৪ বছর ধরে চলা সিরিয়ার গৃহযুদ্ধে সহিংসতায় উসকানি দেওয়া এবং হত্যার পক্ষে সাফাই গাওয়ার মতো গুরুতর অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় সোমবার (২৪ আগস্ট) তাকে এই শাস্তি দেওয়া হয়।
আদালতের বিচারক জানান, আসাদ সরকারের আমলে সামরিক বাহিনীর বিভিন্ন ধ্বংসাত্মক অভিযান এবং বেসামরিক এলাকায় ভয়াবহ 'ব্যারেল বোমা' হামলার মতো অপরাধগুলোকে ধর্মীয় বৈধতা দিয়েছিলেন হাসুন। তিনি সামরিক বাহিনীকে বিরোধীদের কঠোরভাবে দমনের আহ্বান জানাতেন এবং সাধারণ মানুষকে বাড়িঘর ছেড়ে যাওয়ার বা বাস্তুচ্যুত করার হুমকি দিতেন।
যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের পাশাপাশি আদালত তাকে হত্যার উসকানি ও হত্যাযজ্ঞ প্রলম্বিত করার দায়ে আরও ৩০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন। অপরাধের ভয়াবহতা বিবেচনায় আদালত জানিয়েছেন, তিনি কখনোই সাধারণ বা বিশেষ ক্ষমা পাবেন না। সেইসঙ্গে তার সমস্ত সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দেওয়া এবং ভুক্তভোগীদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
২০০৫ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত সিরিয়ার গ্র্যান্ড মুফতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করা হাসুনকে ২০২৫ সালের মার্চে দামেস্ক বিমানবন্দর থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। গত জুন মাসে তার বিচার শুরু হয়। ২০২৪ সালে বাশার আল-আসাদের পতনের পর সিরিয়ায় চলমান বিচার প্রক্রিয়ায় এটি একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা। কারণ এর আগে আসাদসহ অন্যান্য শীর্ষ কর্মকর্তাদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হলেও, হাসুনই প্রথম সুন্নি নেতা যাকে বিচারের আওতায় আনা হলো।
আদালতের এই রায়কে সিরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী স্বাগত জানিয়েছেন। তবে অনলাইনে হাসুনের কিছু সমর্থক দাবি করেছেন যে তার বক্তব্যগুলো ভুলভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে, যদিও বিরোধীরা শুরু থেকেই তার মৃত্যুদণ্ড দাবি করে আসছিলেন।
সূত্র: আল জাজিরা
ডিবিসি/এসভিএন