সম্প্রতি এক ফোনালাপে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে দক্ষিণ সিরিয়া ও লেবানন থেকে সেনা প্রত্যাহারের তাগিদ দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস এবং ইসরায়েলি চ্যানেল ১২-এর এক যৌথ প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, গত সপ্তাহের বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত ওই ফোনালাপে ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছেন, সিরিয়ার ভূখণ্ডে ইসরায়েলের সামরিক উপস্থিতি এমন উত্তেজনা সৃষ্টি করছে যা পরিস্থিতিকে আরও বড় সংঘাতের দিকে ঠেলে দিতে পারে। ট্রাম্প নেতানিয়াহুকে সরাসরি বলেন, "তারা আপনাকে সেখানে দেখতে চায় না। আপনার সেনা সরিয়ে নেওয়া উচিত।" লেবাননের ক্ষেত্রেও তিনি একই ধরনের অনুরোধ জানান। তবে নেতানিয়াহু ইসরায়েলের নিজস্ব নিরাপত্তা চাহিদার কথা উল্লেখ করে ট্রাম্পের এই প্রস্তাবের বিরোধিতা করেছেন।
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ওয়াশিংটন গত কয়েক মাস ধরে ইসরায়েল ও সিরিয়ার মধ্যে একটি নিরাপত্তা চুক্তির চেষ্টা করছিল। কিন্তু সিরিয়া থেকে সেনা প্রত্যাহারের শর্তে নেতানিয়াহু রাজি না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত সেই প্রচেষ্টা সফল হয়নি বলে মার্কিন কর্মকর্তারা মনে করছেন। ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় জানিয়েছে, ফোনালাপের সময় নেতানিয়াহু ইসরায়েলের সীমান্তজুড়ে 'নিরাপত্তা অঞ্চল' (Security zones) বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তার ওপর বিশেষভাবে জোর দিয়েছেন। অন্যদিকে, হোয়াইট হাউস ফোনালাপের বিস্তারিত প্রকাশ না করলেও ট্রাম্পের সাথে নেতানিয়াহুর ‘দৃঢ় সম্পর্কের’ কথা পুনর্ব্যক্ত করে মার্কিন প্রেসিডেন্টকে ‘শান্তির পক্ষে লড়াকু’ হিসেবে অভিহিত করেছে।
এদিকে, হিজবুল্লাহর অস্ত্র মুক্ত করার লক্ষ্যে লেবাননের সশস্ত্র বাহিনীকে নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রণের সুযোগ দিতে গত মাসে দক্ষিণ লেবাননের দুটি নির্দিষ্ট 'পাইলট জোন' থেকে সেনা প্রত্যাহারে সম্মত হয়েছিল ইসরায়েল। তবে আড়াই সপ্তাহ পার হয়ে গেলেও ইসরায়েল এখনও সেই অঞ্চলগুলো থেকে সেনা প্রত্যাহার করেনি, যার ফলে দুপক্ষের আলোচনা কিছুটা ধীরগতির হয়ে পড়েছে। এই অচলাবস্থা কাটানোর লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার রোমে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে সরাসরি আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিডন সা’র জানিয়েছেন, তারা এই দুটি পাইলট জোন বাস্তবায়নে প্রস্তুত রয়েছেন এবং রোমের চলমান আলোচনা এই প্রক্রিয়াকে আরও ত্বরান্বিত করবে বলে তিনি আশাবাদী। বর্তমানে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী লেবানন সীমান্তের ভেতরে প্রায় ১০ কিলোমিটার পর্যন্ত এলাকা জুড়ে একটি তথাকথিত ‘বাফার জোন’ দখল করে রেখেছে।
এই কূটনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যেই গত বৃহস্পতিবার ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারী একদল উগ্রপন্থী লেবানন সীমান্তে অনুপ্রবেশের চেষ্টা চালায়, যাদের পরবর্তীতে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) ফেরত নিয়ে আসে। আটককৃতরা 'উরি জাফন মুভমেন্ট' নামক একটি ধর্মীয় জায়নবাদী সংগঠনের সদস্য, যারা দক্ষিণ লেবাননে ইহুদি বসতি স্থাপনের দাবি জানিয়ে আসছে। এর পাশাপাশি, গত সোমবার গোলান মালভূমি অঞ্চলে সিরিয়া সীমান্তেও কিছু ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারী অবৈধভাবে প্রবেশের চেষ্টা করলে সামরিক বাহিনী তাদের প্রতিহত করে। সিরিয়া ও লেবানন সীমান্তে এই উগ্রপন্থীদের অনুপ্রবেশের চেষ্টা বর্তমান সংঘাতময় পরিস্থিতিতে নতুন করে উত্তেজনা ছড়াচ্ছে।
সূত্র: টাইমস অব ইসরায়েল
ডিবিসি/পিআরএএন