সিরিয়ার রাজধানী দামেস্কের কেন্দ্রস্থলে একটি ক্যাফেতে ভয়াবহ বিস্ফোরণে অন্তত ছয়জন নিহত এবং ২২ জন আহত হয়েছেন। সিরিয়ার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় হতাহতের এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। সরকারি সূত্রগুলোর মতে, নিহতের সংখ্যা আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
সিরিয়ার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্থানীয় সময় বিকেল ৩টা ২৪ মিনিটে (জিএমটি ১২:২৪) আল-মারজাহ জেলার আল-নাসের স্ট্রিটে অবস্থিত একটি ক্যাফেতে এই বিস্ফোরণ ঘটে। ক্যাফেটি সিরিয়ার 'প্যালেস অফ জাস্টিস' বা বিচারালয়ের খুব কাছেই অবস্থিত। সিরিয়ার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন জানিয়েছে, একটি বিস্ফোরক ডিভাইসের মাধ্যমে এই হামলা চালানো হয়েছে।
বিস্ফোরণের পর ঘটনাস্থলের ফুটেজে ক্যাফেটির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি এবং মেঝেতে রক্তের দাগ দেখা গেছে। অ্যাম্বুলেন্স ও উদ্ধারকর্মীরা পৌঁছানোর আগেই স্থানীয় বাসিন্দারা আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করেন। দ্বিতীয় কোনো বিস্ফোরণ হতে পারে-এমন আশঙ্কায় নিরাপত্তা বাহিনী তাৎক্ষণিকভাবে এলাকাটি ঘিরে ফেলে।
আল জাজিরার সিরিয়া প্রতিনিধি মিলাদ ফদল জানিয়েছেন, এই হামলার পেছনের কারণ ও দোষীদের শনাক্ত করতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তদন্ত শুরু করেছে। এলাকার বেশ কয়েকটি সরকারি ও বেসরকারি সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করা হচ্ছে।
ফদল জানান, অপরাধীদের শনাক্ত করার মতো চূড়ান্ত প্রমাণ এখনও পাওয়া না গেলেও নিরাপত্তা বাহিনী দেশব্যাপী সক্রিয় 'স্লিপার সেল'গুলোকে খুঁজছে। মূলত যারা নতুন সরকারকে অস্থিতিশীল করতে চাইছে, তারাই এই ধরনের হামলা চালাচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর আগেও এ ধরনের সেলগুলোকে নিরাপত্তা বাহিনী গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছে।
বিস্ফোরণস্থলটি তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ ক্যাফে থেকে মাত্র ৪০ মিটার (১৩১ ফুট) দূরে অবস্থিত বিচারালয়ে সাবেক আল-আসাদ সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের বিচারকাজ চলছে। চলতি সপ্তাহেই সিরিয়ার সাবেক গ্র্যান্ড মুফতি আহমদ বদর আল-আলদিন হাসুন প্যালেস অফ জাস্টিসে বিচারের মুখোমুখি হন। বিচারকার্য এবং কাছাকাছি বাজারগুলোর কারণে ঘটনার সময় এলাকাটি বেশ জনবহুল ছিল।
দামেস্কের গভর্নর মাহের মারওয়ান ঘটনাস্থলের কাছে সাংবাদিকদের বলেন, ‘সাম্প্রতিক মাসগুলোতে রাজধানীর নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে, তবে সিরীয় রাষ্ট্রের পূর্ণ স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে আরও কিছু সময় লাগবে। সিরিয়া যত স্থিতিশীলতা অর্জন করছে, এর ক্ষতি করতে চাওয়া লোকের সংখ্যা ততই বাড়ছে।’
তিনি অপরাধীদের হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘আগামী কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সব পরিষ্কার হয়ে যাবে। যারা সিরীয়দের রক্ত ঝরিয়েছে তাদের এর চড়া মূল্য দিতে হবে। আমরা ঐক্যবদ্ধ থাকলে কোনো কিছুই সিরিয়া রাষ্ট্রকে টলাতে পারবে না।’
আল জাজিরার আরেক সংবাদদাতা ওবাইদা হিত্তো জানিয়েছেন, ঘটনাস্থলে এখনও প্রচুর মানুষের ভিড় রয়েছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রশাসন কাজ করে যাচ্ছে।
ডিবিসি/এমএনকে