চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার দুর্গম পাহাড়ি জনপদ জঙ্গল সলিমপুরে যৌথবাহিনীর এক বৃহৎ সাঁড়াশি অভিযানে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র, গোলাবারুদ এবং অস্ত্র তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে। এই অভিযানে একটি সন্ত্রাসী চক্রের ২২ জন সদস্যকে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এই ঘটনায় সীতাকুণ্ড থানায় অস্ত্র ও বিস্ফোরক আইনে তিনটি পৃথক মামলা দায়ের করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১০৯ মার্চ ) দুপুরে চট্টগ্রাম রেঞ্জ কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে রেঞ্জ ডিআইজি মো. আহসান হাবীব পলাশ এই অভিযানের চাঞ্চল্যকর সব তথ্য তুলে ধরেন। তিনি জানান, গহীন পাহাড়ের ভেতর অপরাধীরা রীতিমতো একটি অস্ত্র তৈরির কারখানা গড়ে তুলেছিল। ওই কারখানায় তারা নিজেরাই অস্ত্র তৈরি করত। শুধু তাই নয়, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর গতিবিধি পর্যবেক্ষণের জন্য পুরো পাহাড়জুড়ে সিসিটিভি ক্যামেরার একটি শক্তিশালী নেটওয়ার্কও স্থাপন করেছিল তারা। যৌথবাহিনীর এই সফল অভিযানে তাদের সেই অত্যাধুনিক নজরদারি ব্যবস্থাও সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে।
ডিআইজি পলাশ আরও উল্লেখ করেন যে, এই অভিযানে শীর্ষ কোনো সন্ত্রাসীকে আটক করা সম্ভব না হলেও জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পূর্ণ কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করা গেছে। আগে অপরাধীরা ওই দুর্গম এলাকায় নির্বিঘ্নে লুকিয়ে থাকার সুযোগ পেত, কিন্তু এখন থেকে সেই পরিস্থিতি আর থাকবে না। এলাকাটিতে স্থায়ী নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করতে দুটি নতুন পুলিশ ক্যাম্প স্থাপনের পাশাপাশি নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও তিনি জানান।
যৌথবাহিনীর এই অভিযানে উদ্ধারকৃত অস্ত্রের পরিমাণও ব্যাপক। পুলিশ জানিয়েছে, জঙ্গল সলিমপুরের ওই আস্তানা থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, একটি দেশীয় পিস্তল, একটি এলজি, ২৭টি পাইপগান এবং অস্ত্র তৈরির জন্য প্রস্তুত রাখা ৫৭টি পাইপ উদ্ধার করা হয়েছে। এর পাশাপাশি ১ হাজার ১১৩ রাউন্ড গুলি, ৬১টি কার্তুজ, ৩০টি ম্যাগাজিন ও ১১টি তাজা ককটেল জব্দ করা হয়। আস্তানা থেকে অস্ত্র তৈরিতে ব্যবহৃত একটি লেদ মেশিনও উদ্ধার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এছাড়া সন্ত্রাসীদের সার্বক্ষণিক নজরদারির কাজে ব্যবহৃত ১৯টি সিসি ক্যামেরা, বেশ কয়েকটি ডিভিআর এবং দুটি বাইনোকুলারও জব্দ করা হয়েছে।
ডিবিসি/এফএইচআর