পূর্বাঞ্চলীয় সীমান্তে আমু নদীর ওপর সেতু চালু করেছে রাশিয়া ও চীন। ক্রমেই ঘনিষ্ঠ হতে থাকা দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে বাণিজ্য আরও জোরদারে এই সেতু গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা দুই দেশের।
ইউক্রেনে সামরিক অভিযানকে ঘিরে পশ্চিমাদের নজিরবিহীন নিষেধাজ্ঞায় পড়া রাশিয়া মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে বাণিজ্য বাড়ানোর চেষ্টায় আছে। রাশিয়া বেইজিংয়ের সাথে ২০২৪ সালের মধ্যে দুইশ’ বিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য করবে বলে ধারনা করা হচ্ছে। রাশিয়ার প্রাকৃতিক সম্পদ ও কৃষি পণ্যের এক বড় ক্রেতা চীন।
উদ্বোধন করা সেতুটি রাশিয়ার ব্লগাভিশচনস্ক শহরের সঙ্গে চীনের হিআইহে শহরকে যুক্ত করেছে। রাশিয়ার কর্তৃপক্ষ বলেছে, বাণিজ্য বাড়ানোর মধ্যে দিয়ে এই সেতুটি মস্কো ও বেইজিংয়ের মিত্রতা আরও গভীর করবে।
রুশ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গত ফেব্রুয়ারিতে মস্কো ও বেইজিং ‘সীমাহীন’ সহযোগিতার ঘোষণা দেওয়ার পর বাণিজ্য বাড়িয়ে এই সেতু মস্কো ও চীনকে আরও ঘনিষ্ঠ করে তুলবে। প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ইউক্রেনে সেনা পাঠানোর আগে এই সহযোগিতার ঘোষণা দেন।
রাশিয়ার দুর্গম পূর্বে নিযুক্ত ক্রেমলিনের প্রতিনিধি ইয়ুরি ট্রাটনেভ বলেন, ‘আজকের বিভক্ত বিশ্বে, রাশিয়া ও চীনের মধ্যে ব্লাগোভেশচেনস্ক-হেইহে সেতু একটি বিশেষ প্রতীকী অর্থ বহন করে।’ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে চীনের উপপ্রধানমন্ত্রী হু চুনহুয়া বলেছেন, ‘চীন রাশিয়ার সঙ্গে সব ক্ষেত্রে বাস্তব সহযোগিতা আরও গভীর করতে চায়।'
এই সেতুর ফলে চীনের পণ্য রাশিয়ার পশ্চিমাঞ্চলে পৌঁছাতে দূরত্ব কমাবে ১৫০০ কিলোমিটার। সেতুটি পার হতে যানবাহনকে আট হাজার সাতশ’ রুবল পরিশোধ করতে হবে। নির্মাণ খরচ উঠে যাওয়ার পর টোল খরচ কমবে বলে আশা প্রকাশ করেছে তারা।