বাংলাদেশ, জেলার সংবাদ

সুইপারের মা-হারা কনের বিয়েতে গাজীপুরের ডিসি

গাজীপুর প্রতিনিধি

ডিবিসি নিউজ

৬ ঘন্টা আগে
Facebook NewswhatsappInstagram NewsGoogle NewsYoutube

সমাজের তথাকথিত উঁচু-নিচু ভেদাভেদ ও শ্রেণিবৈষম্যের দেয়ালে কুঠারাঘাত করে এক অনন্য মানবিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন গাজীপুরের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো: নূরুল করিম ভূঁইয়া।

গতানুগতিক প্রটোকল ভেঙে তিনি উপস্থিত হয়েছিলেন হরিজন (সুইপার) সম্প্রদায়ের এক মা-হারা এতিম কনের বিয়ের অনুষ্ঠানে। প্রশাসনের সর্বোচ্চ পর্যায়ের একজন কর্মকর্তার এমন অভাবনীয় উপস্থিতিতে পুরো হরিজন পল্লীতে বইছে আনন্দের জোয়ার।

 

কনে প্রীতি রানী বাসফোর বর্তমানে স্নাতক দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। তার বাবা শ্রী রতন বাসফোর গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনে দীর্ঘকাল পরিচ্ছন্নতা কর্মী হিসেবে কাজ করছেন এবং তার প্রয়াত মা সীমা রানি বাসফোরও ডুয়েটের পরিচ্ছন্নতা কর্মী ছিলেন। 

 

সমাজের অবহেলিত এই জনগোষ্ঠীর আমন্ত্রণে সাড়া দিয়ে ডিসি যখন অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছান, তখন সেখানে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। অস্পৃশ্যতার গ্লানি বয়ে বেড়ানো এই মানুষগুলো জেলা প্রশাসককে কাছে পেয়ে আপ্লুত হয়ে পড়েন; কেউ কেউ খুশিতে ও কৃতজ্ঞতায় কর্মকর্তাদের প্রণাম করতে থাকেন।

 

এলাকাবাসী ও সুধীসমাজ জেলা প্রশাসকের এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়ে বলছেন, জনপ্রতিনিধি বা উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের এমন সাধারণ মানুষের কাতারে নেমে আসা সামাজিক সমতার বার্তা দেয়। এটি কেবল একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ নয়, বরং সমাজের তথাকথিত ‘অচ্ছুত’ ধারণা দূর করার একটি বলিষ্ঠ পদক্ষেপ।

 

অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক মো: নূরুল করিম ভূঁইয়া তাঁর বক্তব্যে বলেন, সংবিধান অনুযায়ী ধর্ম, বর্ণ বা পেশা নির্বিশেষে রাষ্ট্রের কাছে প্রতিটি নাগরিক সমান। কোনো পেশাই অমর্যাদার বা কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। গাজীপুরকে একটি সমতা ও ঐক্যের জেলা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করে তিনি আরও বলেন, মানুষের প্রতি মানুষের ভালোবাসা ও সম্মান প্রদর্শন করাই আমাদের প্রধান কর্তব্য।

 

জেলা প্রশাসনের এমন মানবিক অবস্থান সমাজের সকল স্তরের মানুষের মধ্যে সমান মর্যাদা নিশ্চিত করতে এবং বৈষম্যহীন সমাজ গঠনে দীর্ঘমেয়াদী অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

 

ডিবিসি/টিবিএ

আরও পড়ুন