অস্ট্রেলিয়ার একটি নির্জন রাস্তার পাশে স্যুটকেসবন্দি 'মৃতদেহ' উদ্ধারের ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়ায়। দৃশ্যটি এতটাই বাস্তবসম্মত ছিল যে, পুলিশ প্রাথমিকভাবে একটি খুনের মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করে। কিন্তু কয়েক ঘণ্টা পর ফরেনসিক ল্যাবে পরীক্ষা শেষে জানা যায়, স্যুটকেসের ভেতরে থাকা বস্তুটি কোনো মানুষের মৃতদেহ নয়, বরং সেটি অবিকল মানুষের মতো দেখতে একটি লাইফলাইক বা প্রাপ্ত বয়স্কদের পুতুল।
সিডনি থেকে প্রায় ২৩০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে ওলেন নামক একটি ছোট গ্রামের কাছে রাস্তার পাশে একটি পরিত্যক্ত স্যুটকেস দেখতে পান দুই ব্যক্তি।
সাপ্তাহিক ছুটির দিনে তারা গাড়ি নিয়ে ঘুরতে বেরিয়েছিলেন এবং বিশ্রামের জন্য সেখানে থেমেছিলেন। স্যুটকেসের ভেতরে উঁকি দিয়েই তারা শিউরে ওঠেন। ভেতরে অবিকল মানুষের মতো কিছু একটা দেখে আতঙ্কিত হয়ে তারা দ্রুত পুলিশে খবর দেন।
হিউম পুলিশ ডিস্ট্রিক্টের সুপারিনটেনডেন্ট লিন্ডা ব্র্যাডবেরি জানান, পুতুলটি এতটাই নিখুঁতভাবে তৈরি ছিল যে, পুলিশও প্রাথমিকভাবে সেটিকে মানুষের মৃতদেহ বলে ভুল করেছিল। পুতুলটির পরনে সাধারণ পোশাক ছিল, মাথায় আসল মানুষের মতো চুল এবং নাকে পিয়ার্সিং বা নোলক ছিল। সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয় হলো, পুতুলটির গায়ে আঘাত এবং কালশিটে পড়ার মতো দাগও ছিল, যা দেখে এটিকে নির্যাতনের শিকার কোনো মানুষের লাশ বলেই মনে হচ্ছিল।
খবর পেয়ে দ্রুত ফরেনসিক দল ও তদন্তকারীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং নিয়ম মেনে পুরো এলাকাটিকে অপরাধের ঘটনাস্থল হিসেবে ঘিরে ফেলে। পুলিশ তড়িঘড়ি করে একটি হত্যা তদন্তের ঘোষণাও দেয়। তবে ফরেনসিক পরীক্ষার পর সবার ভুল ভাঙে। সুপারিনটেনডেন্ট ব্র্যাডবেরি জানান, প্রাথমিকভাবে একে অপরাধমূলক ঘটনা ভেবে পুলিশ যে পদক্ষেপ নিয়েছিল, তা নিয়ে তাদের কোনো আক্ষেপ নেই।
পুলিশ স্যুটকেস উদ্ধারকারী আতঙ্কিত ওই দুই ব্যক্তিকে ঘটনাটির আসল সত্যতা জানিয়ে আশ্বস্ত করবে বলে জানিয়েছে। বর্তমানে পুলিশ আনুষ্ঠানিকভাবে এই চাঞ্চল্যকর খুনের তদন্ত সম্পূর্ণভাবে বন্ধ ঘোষণা করেছে।
সূত্র: বিবিসি
ডিবিসি/এমএনকে