যুদ্ধবিধ্বস্ত সুদান বর্তমানে বিশ্বের বৃহত্তম মানবিক সংকটের কেন্দ্রবিন্দু হলেও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে এটি সবচেয়ে অবহেলিত। ২২টি শীর্ষস্থানীয় সাহায্য সংস্থার সমন্বয়ে থমসন রয়টার্স ফাউন্ডেশনের জরিপে এ তথ্য উঠে এসেছে। উত্তরদাতাদের এক তৃতীয়াংশই সুদানের নাম উল্লেখ করেছেন।
জরিপে অংশগ্রহণকারীরা মিয়ানমার, আফগানিস্তান, সোমালিয়া, আফ্রিকার সাহেল অঞ্চল এবং মোজাম্বিকসহ আরও কয়েকটি 'উপেক্ষিত' সংকটের কথা তুলে ধরেছেন।
জাতিসংঘের তথ্যমতে, বর্তমানে সুদানে প্রায় ৩ কোটি মানুষের জরুরি মানবিক সহায়তা প্রয়োজন, যা অস্ট্রেলিয়ার মোট জনসংখ্যার সমান।
সুদানের জন্য প্রয়োজনীয় ৪.১৬ বিলিয়ন ডলারের তহবিলের মাত্র এক-তৃতীয়াংশ এখন পর্যন্ত পাওয়া গেছে। প্রায় ২ কোটি ১০ লাখ মানুষ তীব্র ক্ষুধার সম্মুখীন এবং দেশটির দুটি শহরে ইতিমধ্যেই দুর্ভিক্ষ দেখা দিয়েছে।
১২ মিলিয়নেরও বেশি মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়েছে, যা বর্তমানে বিশ্বের বৃহত্তম বাস্তুচ্যুতি সংকট।
সেভ দ্য চিলড্রেন-এর মানবিক পরিচালক আবদুর রহমান শরীফ বলেন, সুদান সংকট প্রতিদিন সংবাদপত্রের প্রধান খবর হওয়া উচিত ছিল। অথচ বিশ্ব লজ্জাজনকভাবে এই ট্র্যাজেডি থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থার আঞ্চলিক পরিচালক মামাদু ডিয়ান বাল্ডে এই পরিস্থিতিকে ‘মানবতার জন্য একটি কলঙ্ক’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
জরিপে অংশ নেওয়া সংস্থাগুলো জানায়, যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা দেশগুলো তাদের বৈদেশিক সাহায্যের পরিমাণ কমিয়ে দেওয়ায় এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনৈতিক ইস্যুতে ব্যস্ত থাকায় সুদান আড়ালে পড়ে গেছে। ২০২৩ সালের এপ্রিলে সুদানি সেনাবাহিনী এবং আধা-সামরিক বাহিনী ‘র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস’ এর মধ্যে শুরু হওয়া লড়াই বর্তমানে চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে। সেখানে শিশু হত্যা, ধর্ষণ এবং জোরপূর্বক যুদ্ধে নিয়োগের মতো ভয়াবহ মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটছে।
সুদানের পরেই এই তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্র। এছাড়া মিয়ানমার, আফগানিস্তান, সোমালিয়া এবং আফ্রিকার সাহেল অঞ্চলের পরিস্থিতিকেও চরম অবহেলিত হিসেবে উল্লেখ করেছেন বিশেষজ্ঞরা। বিশেষ করে মিয়ানমারের জন্য প্রয়োজনীয় তহবিলের মাত্র ১৭ শতাংশ সংগৃহীত হয়েছে।
নরওয়েজিয়ান রিফিউজি কাউন্সিলের মহাসচিব ইয়ান ইগেল্যান্ড বলেন, এই অবহেলা কোনো দুর্ঘটনা নয়, এটি একটি সুপরিকল্পিত পছন্দ। বিশ্বনেতারা সুদান ও কঙ্গোর মতো দেশগুলোকে কার্যত ত্যাগ করেছেন।
তথ্যসূত্র আরব নিউজ
ডিবিসি/এমইউএ