আন্তর্জাতিক, অন্যান্য

সুদানে পৃথক দুই ড্রোন হামলায় ২৮ জন নিহত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ডিবিসি নিউজ

২ ঘন্টা আগে
Facebook NewswhatsappInstagram NewsGoogle NewsYoutube

সুদানের চলমান গৃহযুদ্ধ চতুর্থ বছরে পদার্পণ করেছে। এরই সঙ্গে দেশজুড়ে ড্রোন হামলার ভয়াবহতা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, উত্তর দারফুর এবং উত্তর কর্দোফানে দুটি পৃথক ড্রোন হামলায় অন্তত ২৮ জন বেসামরিক নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছেন স্থানীয় স্বাস্থ্যকর্মীরা।

উত্তর দারফুর রাজ্যের সারাফ ওমরা শহরের একটি জনাকীর্ণ বাজারে বুধবার (২৫ মার্চ) প্রথম হামলাটি চালানো হয়। স্থানীয় ক্লিনিকের একজন স্বাস্থ্যকর্মী জানিয়েছেন, ওই হামলায় এক শিশুসহ অন্তত ২২ জন নিহত এবং ১৭ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। প্রত্যক্ষদর্শী ব্যবসায়ী হামিদ সুলেইমান জানান, ড্রোনটি সরাসরি বাজারে পার্ক করা একটি তেলবাহী ট্রাকে আঘাত হানলে মুহূর্তেই বিশাল অগ্নিকাণ্ড ছড়িয়ে পড়ে এবং বাজারের একটি বড় অংশ ভস্মীভূত হয়। তবে এই নির্দিষ্ট হামলাটি কোন পক্ষ চালিয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

 

অন্যদিকে, দারফুর থেকে প্রায় ৫০০ মাইল দূরে উত্তর কর্দোফানের একটি মহাসড়কে বেসামরিক যাত্রীবাহী ট্রাকে দ্বিতীয় হামলাটি চালানো হয়। এল রাহাদ শহরের হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে, সেখানে ছয়জনের মরদেহ আনা হয়েছে, যাদের মধ্যে তিনজনের শরীর মারাত্মকভাবে দগ্ধ। ১০ জন আহতের চিকিৎসাও সেখানে চলছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এই হামলার জন্য আধাসামরিক বাহিনী র‍্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেসকে (আরএসএফ) দায়ী করেছে। উল্লেখ্য, এল ওবেইদ হয়ে দারফুর পর্যন্ত বিস্তৃত এই গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি বর্তমানে সেনাবাহিনী ও আরএসএফ-এর নিয়মিত লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে।

 

২০২৩ সালের ১৫ এপ্রিল সুদানের সেনাবাহিনী ও আরএসএফ এর মধ্যে ক্ষমতা দখলের লড়াই থেকে এ সংঘাতের সূত্রপাত। গত তিন বছরে দেশটির ১১.৬ মিলিয়নেরও বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন, যাকে জাতিসংঘ বিশ্বের সবচেয়ে ভয়াবহ মানবিক সংকট হিসেবে চিহ্নিত করেছে। যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতির সঠিক পরিসংখ্যান নিয়ে মতভেদ থাকলেও ধারণা করা হয়, নিহতের সংখ্যা কয়েক দশ হাজার থেকে চার লক্ষ ছাড়িয়ে গেছে। বিশেষ করে ২০২৫ সালের অক্টোবরে এল ফাশেরে আরএসএফ কর্তৃক ১০ হাজারেরও বেশি মানুষকে গণহত্যার ঘটনা আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র নিন্দার ঝড় তুলেছিল।

 

জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক দপ্তরের তথ্যমতে, চলতি বছর ড্রোন হামলার তীব্রতা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। গত ১ জানুয়ারি থেকে ১৫ মার্চের মধ্যে দেশটিতে ড্রোন হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন ৫০০-এর বেশি মানুষ। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার এক প্রতিবেদনে জানা গেছে, গত ২০ মার্চ পূর্ব দারফুরের একটি হাসপাতালে সেনাবাহিনীর ড্রোন হামলায় ৬৪ জন নিহত হয়েছিলেন। ক্রমাগত ড্রোন ও বিমান হামলায় দেশটির বিস্তীর্ণ অঞ্চল এখন ভয়াবহ দুর্ভিক্ষের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে আছে।

 

তথ্যসূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

 

ডিবিসি/এএমটি

আরও পড়ুন