আন্তর্জাতিক, অন্যান্য

সুদান সীমান্তে ড্রোন হামলায় নিহত অন্তত ১৪

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ডিবিসি নিউজ

২ ঘন্টা আগে
Facebook NewswhatsappInstagram NewsGoogle NewsYoutube

সুদান ও চাদ সীমান্তবর্তী আল-তিনা শহরে একটি ভয়াবহ ড্রোন হামলায় অন্তত ১৪ জন নিহত হয়েছেন, যাদের অধিকাংশই নারী। স্থানীয় সময় গত সোমবার (২৫ মে) এই হামলা চালানো হয়। এ ঘটনার জন্য আধাসামরিক বাহিনী র‍্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস (আরএসএফ)-কে দায়ী করেছে স্থানীয় বাসিন্দা ও সরকারি কর্মকর্তারা। আন্তর্জাতিক সংবাদসংস্থা এএফপি এ খবর নিশ্চিত করেছে।

নিরাপত্তাজনিত কারণে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক প্রত্যক্ষদর্শী ও বেঁচে যাওয়া ব্যক্তি স্যাটেলাইট ইন্টারনেটের মাধ্যমে জানান, সোমবার আল-তিনা বাজারের একটি খাবারের দোকানে ড্রোনটি আঘাত হানে। সেখানে বেশ কয়েকজন নারী চা ও খাবার বিক্রি করছিলেন। হামলার পরপরই স্থানীয় বাসিন্দারা উদ্ধারকাজে এগিয়ে যান এবং ঘটনাস্থল থেকে ১৪টি মরদেহ উদ্ধার করেন, যার বেশিরভাগই নারীদের।


সুদানের সরকারি একজন কর্মকর্তাও এই হামলার সত্যতা নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, প্রশাসন হতাহতদের চূড়ান্ত তালিকা তৈরির কাজ করছে।


সুদানে ২০২৩ সালের এপ্রিল মাস থেকে দেশটির নিয়মিত সেনাবাহিনী এবং আধাসামরিক বাহিনী আরএসএফ-এর মধ্যে গৃহযুদ্ধ চলছে। চলমান এই যুদ্ধে সাম্প্রতিক সময়ে ড্রোন প্রযুক্তির ব্যবহার মারাত্মকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। সম্মুখ সমরে সেনা উপস্থিতি কমিয়ে উভয় পক্ষই এখন দূরনিয়ন্ত্রিত ড্রোন দিয়ে হামলা চালাচ্ছে, যার প্রধান শিকার হচ্ছে সাধারণ মানুষ। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, কেবল ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে এপ্রিল মাসের মধ্যেই ড্রোন হামলায় অন্তত ৮৮০ জন বেসামরিক নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন।


আল-তিনা শহরটি সুদানের সুদূর পশ্চিমের দারফুর অঞ্চলে অবস্থিত। গত বছর আরএসএফ দারফুরের সিংহভাগ অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ নিলেও, আল-তিনাসহ চাদ সীমান্তবর্তী কিছু পকেট এলাকা এখনো সেনাবাহিনীর সহযোগী সশস্ত্র গোষ্ঠী জয়েন্ট ফোর্সেস-এর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ফলে চলতি বছর এই শহরটিতে দফায় দফায় হামলা চালিয়েছে আরএসএফ।


জাতিসংঘের খাদ্য নিরাপত্তা সংক্রান্ত প্রতিবেদনের তথ্যমতে, আল-তিনা শহরটি বর্তমানে তীব্র দুর্ভিক্ষের দ্বারপ্রান্তে রয়েছে। অনাহার ও সংঘাতের হাত থেকে বাঁচতে হাজার হাজার মানুষ সীমান্ত পেরিয়ে প্রতিবেশী দেশ চাদে আশ্রয় নিচ্ছেন।


চার বছরে পদার্পণ করা সুদানের এই গৃহযুদ্ধ বর্তমান বিশ্বের সবচেয়ে বড় অনাহার ও বাস্তুচ্যুতি সংকট তৈরি করেছে। সাহায্য সংস্থাগুলোর মতে, চলমান এই যুদ্ধে এ পর্যন্ত ২ লক্ষাধিক মানুষ নিহত হয়েছেন। আল-তিনা যে উত্তর দারফুর রাজ্যে অবস্থিত, সেখানেই বর্তমানে ১৭ লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত এবং লাখ লাখ মানুষ অনাহারের চরম সীমায় দিন কাটাচ্ছেন।


সূত্র: আরব নিউজ


ডিবিসি/এসএফএল

আরও পড়ুন