সুনামগঞ্জের হাওর অঞ্চলে বোরো ধান কাটা নিয়ে চরম উদ্বেগে দিন কাটাচ্ছেন লাখো কৃষক। আগামী কয়েক দিন ভারী বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলের পূর্বাভাস থাকায় পাকা ধান ঘরে তোলা নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) ভোরে মধ্যনগরের এরন বিল হাওরে বাঁধ ভেঙে পানি প্রবেশ করতে শুরু করেছে। কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, জেলায় এ পর্যন্ত প্রায় ৪৪ শতাংশ ধান কাটা সম্ভব হয়েছে।
হাওরে পানি কমলেও জমি ভেজা থাকায় হারভেস্টার নামানো যাচ্ছে না। এর পাশাপাশি দেখা দিয়েছে তীব্র শ্রমিক সংকট। আবহাওয়া বৈরী থাকায় শ্রমিকের মজুরিও বেড়ে গেছে। কৃষকরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ঝড়-বৃষ্টির মধ্যেই ধান কাটার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। ছায়ার হাওর, ভেড়াডহর ও ভান্ডা বিলসহ বিভিন্ন এলাকায় এখনো প্রায় অর্ধেক ধান কাটা বাকি রয়েছে।
বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, আগামী তিন দিন দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে। উজানে ভারতের মেঘালয় ও চেরাপুঞ্জিতে ভারী বৃষ্টির কারণে আকস্মিক পাহাড়ি ঢলের ঝুঁকি বাড়ছে। এতে সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জের নদীগুলোর পানি বিপৎসীমার কাছাকাছি বা ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এছাড়া আগামী ৪৮ ঘণ্টায় কালবৈশাখী ঝড়েরও পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির এক জরুরি সভায় সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিনহাজুর রহমান শ্রমিক সংকটের বিষয়টি তুলে ধরে সর্বোচ্চ সতর্কতার সঙ্গে দ্রুত ধান তোলার আহ্বান জানিয়েছেন। সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মামুন হাওলাদার ২০১৭ সালের ভয়াবহ আগাম বন্যার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। এদিকে মধ্যনগরের এরন বিল হাওরে মনাই নদীর চাপে বাঁধ ভেঙে পানি ঢুকছে। স্থানীয়রা বাঁধ রক্ষার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। চলতি বছর জেলায় মোট ২ লাখ ২৩ হাজার ৫১১ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে।
ডিবিসি/পিআরএএন