বাংলাদেশ, জেলার সংবাদ

সুন্দরবনে বন্দুকযুদ্ধে ‘দুলাভাই বাহিনী’র প্রধানসহ আটক ২, নিহত ১

মোংলা প্রতিনিধি

ডিবিসি নিউজ

৩ ঘন্টা আগে
Facebook NewswhatsappInstagram NewsGoogle NewsYoutube

সুন্দরবনে কোস্ট গার্ডের টানা দুই দিনব্যাপী এক বিশেষ অভিযানে কুখ্যাত বনদস্যু ‘দুলাভাই বাহিনী’র সঙ্গে তীব্র বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটেছে। এতে বাহিনীর প্রধান রবিউল ইসলামসহ দুই দস্যু আটক এবং শওকত সরদার নামে এক দস্যু নিহত হয়েছে। এ সময় ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকায় তল্লাশি চালিয়ে ৬টি একনলা বন্দুক, ৬৯ রাউন্ড তাজা কার্তুজ ও ৩ রাউন্ড ফাঁকা কার্তুজসহ বিপুল পরিমাণ অস্ত্র-গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়।

শনিবার (২৭ জুন) বিকালে কোস্ট গার্ড পশ্চিম জোনের লেফটেন্যান্ট আশিকুল ইসলাম ইমন এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

 

কোস্ট গার্ড জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায় যে সুন্দরবনের কুখ্যাত ডাকাত দুলাভাই বাহিনীর সদস্যরা কয়রা থানার বনপাড়া এলাকায় বনের গহীনে অবস্থান করছে। এই তথ্যের ভিত্তিতে গত ২৫ জুন বিকাল ৫টা থেকে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড বেইস মোংলা, স্টেশন কয়রা এবং স্টেশন নলিয়ান যৌথভাবে ওই এলাকায় বিশেষ অভিযান শুরু করে।

 

অভিযান চলাকালীন দস্যুদের দুটি বোট শনাক্ত করে কোস্ট গার্ড সদস্যরা তাদের থামার সংকেত দেয়। কিন্তু দস্যুরা সংকেত অমান্য করে কোস্ট গার্ডকে লক্ষ্য করে অতর্কিত গুলি ছুড়তে শুরু করলে আত্মরক্ষার্থে কোস্ট গার্ডও পাল্টা গুলি চালায়। উভয় পক্ষের তীব্র বন্দুকযুদ্ধের একপর্যায়ে ডাকাতদের একটি বোটে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে এবং অপর বোটটি ডুবে যায়। এই অভিযানে কোস্ট গার্ডের পক্ষ থেকে ১ রাউন্ড ব্ল্যাঙ্ক কার্টিজ এবং ২১৬ রাউন্ড তাজা গুলি ফায়ার করা হয়।

 

বন্দুকযুদ্ধ শেষে ঘটনাস্থল তল্লাশি করে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় দুলাভাই বাহিনীর প্রধান রবিউল ইসলাম (৫০) এবং ডাকাত শওকত সরদারকে (৫৫) আটক করা হয়। তাদের দ্রুত কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক শওকত সরদারকে মৃত ঘোষণা করেন। 

 

অন্যদিকে, প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে গুরুতর আহত বাহিনী প্রধান রবিউল ইসলামকে উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। আটক রবিউল ও নিহত শওকত খুলনা জেলার কয়রা থানার বাসিন্দা।

 

এদিকে, বন্দুকযুদ্ধের সময় পালিয়ে যাওয়া বাকি ডাকাতদের ধরতে কোস্ট গার্ড ও বাংলাদেশ পুলিশ তাৎক্ষণিক চিরুনি অভিযান শুরু করে। এরই অংশ হিসেবে মঠবাড়ীয়া পুলিশ ফাঁড়ির সামনে স্থানীয় জনগণের সহায়তায় পরিচালিত যৌথ অভিযানে ইসরাফিল হাওলাদার (২৬) নামে আরও এক ডাকাতকে হাতের আঙুলে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় আটক করা হয়। সে সাতক্ষীরা জেলার আশাশুনি থানার বাসিন্দা। 

 

পরবর্তীতে আরশিবসা নদীর বেসুখাল এলাকায় ব্যাপক তল্লাশি চালিয়ে দস্যুদের ফেলে যাওয়া ৬টি একনলা বন্দুক, ৬৯ রাউন্ড তাজা কার্তুজ, ৩ রাউন্ড ফাঁকা কার্তুজ, ১টি দেশীয় অস্ত্র, ১টি মোবাইল ও ১টি হাতঘড়ি উদ্ধার করা হয়। 

 

আটককৃত ডাকাত ও উদ্ধারকৃত অস্ত্র-গোলাবারুদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং নিহত ডাকাতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কয়রা থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

 

ডিবিসি/এমএনকে

আরও পড়ুন