ইসলামি বিপ্লবের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ আলী খামেনি, শীর্ষ সামরিক কমান্ডার এবং মিনাবের স্কুলশিশুদের শাহাদাতের ৪০তম দিন (চেহলাম) উপলক্ষে তেহরানসহ পুরো ইরানজুড়ে লাখো মানুষ রাজপথে নেমে এসেছে।
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) সকালে রাজধানী তেহরানের জমহুরি স্কয়ার থেকে এই বিশাল শোক মিছিল শুরু হয়। মিছিলটি সেই স্থান অভিমুখে অগ্রসর হয়, যেখানে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন-ইসরায়েলি সন্ত্রাসী বিমান হামলায় আয়াতুল্লাহ খামেনি শাহাদাতবরণ করেছিলেন। দিনব্যাপী চলা এই কর্মসূচিতে শোকাতুর জনতা বিভিন্ন স্লোগান দেন, শোকগাঁথা পাঠ করেন এবং মরহুম নেতার আদর্শের প্রতি নিজেদের আনুগত্য পুনব্যক্ত করেন। তেহরানের পাশাপাশি ইরানের শত শত শহর ও জনপদে একযোগে এই শোক মিছিল অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান বিরোধী মার্কিন ও ইসরায়েলি বাহিনীর অবৈধ সামরিক আগ্রাসনের প্রথম দিনে সপরিবারে শাহাদাতবরণ করেন আয়াতুল্লাহ খামেনি। একই হামলায় ইরানের বেশ কয়েকজন শীর্ষ সামরিক কমান্ডার ও উপদেষ্টা নিহত হন, যাদের মধ্যে রয়েছেন মেজর জেনারেল আবদুর রহিম মৌসাভি, রিয়ার অ্যাডমিরাল আলী শামখানি এবং মেজর জেনারেল মোহাম্মদ পাকপুর।
এছাড়া শত্রুপক্ষ উদ্দেশ্যমূলকভাবে ইরানের বেসামরিক অবকাঠামো ও জ্বালানি স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু বানায়, যার ফলে শত শত প্রাণহানি ঘটে। আগ্রাসনের প্রথম দিনে মিনাব অঞ্চলের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মার্কিন বাহিনীর বর্বরোচিত হামলায় ১৭০ জনেরও বেশি বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়, যাদের অধিকাংশই ছিল কোমলমতি শিশু।
পাল্টা আঘাত ও যুদ্ধবিরতি এই উস্কানিমূলক হামলার পর ইরানি সশস্ত্র বাহিনী দ্রুত পাল্টা ব্যবস্থা গ্রহণ করে। অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড এবং অঞ্চলের বিভিন্ন দেশে অবস্থানরত মার্কিন সামরিক লক্ষ্যবস্তুগুলোতে ১০০টিরও বেশি ধাপে ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানো হয়।
টানা উত্তেজনার পর, ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ গত বুধবার জানিয়েছে, পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় দুই সপ্তাহের একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। ইরানের দেওয়া ১০ দফা প্রস্তাব যুক্তরাষ্ট্র মেনে নেওয়ার পর এই সমঝোতা কার্যকর হয়।
বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) জানিয়েছে, আয়াতুল্লাহ খামেনির শাহাদাত ইসলামি বিপ্লব ও ইসলামি প্রজাতন্ত্রের প্রসারে তাঁর জীবিত অবস্থার মতোই প্রভাবশালী ভূমিকা পালন করছে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ইরানি জাতির প্রতিরোধ ও ঐক্য এবং সশস্ত্র বাহিনীর ১০০টি বিধ্বংসী পাল্টা হামলা শত্রুদের অপমানজনক পিছুটান নিশ্চিত করেছে।
আইআরজিসি আরও উল্লেখ করে, প্রতিরোধ, স্বাধীনতা, অগ্রগতি, ন্যায়বিচার এবং আধ্যাত্মিকতার ক্ষেত্রে আয়াতুল্লাহ খামেনির চিন্তাধারা ও দিকনির্দেশনা দেশ পরিচালনার জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ ব্যবস্থা হিসেবে কাজ করবে।
সূত্র: প্রেস টিভি
ডিবিসি/এসএফএল