মিয়ানমারে কারাবন্দী গণতন্ত্রপন্থী নেত্রী ও শান্তিতে নোবেলজয়ী অং সান সু চির সাজার মেয়াদ কমিয়েছে দেশটির সরকার। শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) সু চির আইনজীবীর বরাত দিয়ে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এক প্রতিবেদনে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
জানা গেছে, মিয়ানমার সরকার তার মক্কেলের সাজার মেয়াদ মোট সাজার ৬ ভাগের এক ভাগ কমিয়েছে। তবে বাকি সাজা তিনি গৃহবন্দী অবস্থায় কাটানোর সুযোগ পাবেন কি না, তা এখনো নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি।
মিয়ানমারের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে সম্প্রচারিত খবর অনুযায়ী, দেশটির নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট মিন অং হ্লাইং মোট ৪ হাজার ৩৩৫ জন বন্দীর জন্য সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করেছেন। মূলত মিয়ানমারে প্রতিবছর জানুয়ারি মাসে স্বাধীনতা দিবস এবং এপ্রিলে নববর্ষ উপলক্ষে বন্দীদের জন্য এ ধরনের সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করার রেওয়াজ রয়েছে। গত ৬ মাসের মধ্যে এটি এ ধরনের তৃতীয় পদক্ষেপ। তবে সু চির সাজা কমানোর বিষয়ে রয়টার্সের পক্ষ থেকে মিয়ানমার সরকারের এক মুখপাত্রের মন্তব্য জানতে চাওয়া হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।
উল্লেখ্য, ২০২১ সালে এক সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত অং সান সু চির নেতৃত্বাধীন সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করেন সেনাপ্রধান মিন অং হ্লাইং। এ ঘটনার পর থেকেই মিয়ানমার চরম রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে পড়ে। অভ্যুত্থানের পর থেকে জান্তা সরকারের নেতৃত্ব দেওয়া মিন অং হ্লাইং সম্প্রতি গত ৩ এপ্রিল মিয়ানমারের নতুন প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচিত হন। যদিও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এ নির্বাচন কোনোভাবেই অবাধ ও সুষ্ঠু ছিল না।
বর্তমানে ৮০ বছর বয়সী অং সান সু চি উসকানি, দুর্নীতি, নির্বাচনে জালিয়াতি এবং রাষ্ট্রীয় গোপনীয়তা আইন লঙ্ঘনের মতো একাধিক অভিযোগে ২৭ বছরের কারাদণ্ড ভোগ করছেন। তবে শুরু থেকেই এ নেত্রীর সমর্থক ও গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দলগুলোর দাবি, তার বিরুদ্ধে আনা এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
তথ্যসূত্র: রয়টার্স
ডিবিসি/এমটি