১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারের নিষেধাজ্ঞা অমান্যকারী প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে আরও কঠোর ব্যবস্থা নিতে যাচ্ছে অস্ট্রেলিয়া। নতুন প্রস্তাবিত আইনের আওতায়, নিয়ম অমান্যকারী সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলোর সর্বোচ্চ জরিমানা দ্বিগুণ করে ৯৯ মিলিয়ন অস্ট্রেলিয়ান ডলার (প্রায় ৬৮.২৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার) করার পরিকল্পনা করেছে দেশটির সরকার।
আনাদোলুর এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি অ্যালবানিজ জানিয়েছেন, প্রধান প্রযুক্তি সংস্থাগুলো আইন মেনে চলার জন্য পর্যাপ্ত পদক্ষেপ নেয়নি এবং এখনও বহু শিশু সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করছে। এই কারণে দায়বদ্ধতা পূরণে ব্যর্থ কোম্পানিগুলোর জন্য সর্বোচ্চ জরিমানা ৪৯.৫ মিলিয়ন অস্ট্রেলিয়ান ডলার থেকে বাড়িয়ে ৯৯ মিলিয়ন অস্ট্রেলিয়ান ডলার করা হচ্ছে। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে, আইন অনুযায়ী প্ল্যাটফর্মগুলোকে ১৬ বছরের কম বয়সী ব্যবহারকারীদের নতুন অ্যাকাউন্ট তৈরি করা বা বিদ্যমান অ্যাকাউন্টে প্রবেশ করা থেকে বিরত রাখতে যৌক্তিক পদক্ষেপ নেওয়ার আইনি বাধ্যবাধকতা রয়েছে।
এবিসি নিউজের তথ্যমতে, প্রস্তাবিত এই আইনের মাধ্যমে প্রযুক্তি সংস্থাগুলোর বিরুদ্ধে প্রয়োগমূলক ব্যবস্থা জোরদার করতে নিয়ন্ত্রক সংস্থার ক্ষমতা আরও সম্প্রসারণ করা হবে। নতুন নিয়মে ই-সেফটি কমিশনার জুলি ইনম্যান গ্রান্ট বয়সসীমা কার্যকর করার জন্য সোশ্যাল মিডিয়া সংস্থাগুলোকে তাদের গৃহীত পদক্ষেপের প্রমাণ দাখিল করার নির্দেশ দিতে পারবেন। এছাড়া, বয়স যাচাই পরিষেবা প্রদানকারী তৃতীয় পক্ষের সংস্থাগুলোকেও নিয়ন্ত্রক সংস্থার কাছে প্রয়োজনীয় তথ্য সরবরাহ করতে হবে।
গত ১০ ডিসেম্বর, ২০২৫ থেকে অস্ট্রেলিয়ায় ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারের এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হয়েছে। সরকারের দেওয়া তথ্যমতে, বিধিনিষেধ কার্যকর হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত শিশুদের ৫০ লাখেরও বেশি অ্যাকাউন্ট মুছে ফেলা, নিষ্ক্রিয় বা ব্লক করা হয়েছে।
বর্তমানে এই কঠোর বিধিনিষেধ ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, এক্স, টিকটক, ইউটিউব, স্ন্যাপচ্যাট, রেডিট, টুইচ, থ্রেডস এবং কিক-সহ ১০টি জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। শিশু ও তরুণ প্রজন্মের ওপর সোশ্যাল মিডিয়ার অ্যালগরিদম এবং ক্ষতিকর অনলাইন কন্টেন্টের নেতিবাচক প্রভাব কমানোর লক্ষ্যেই অস্ট্রেলিয়া সরকার এই আইনি পদক্ষেপ নিচ্ছে।
ডিবিসি/এমএনকে