যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক হামলায় সহায়তার অভিযোগে মধ্যপ্রাচ্যের পাঁচ দেশের কাছে আনুষ্ঠানিক ক্ষতিপূরণ দাবি করেছে ইরান। তেহরানের অভিযোগ, সৌদি আরবসহ এই দেশগুলো নিজেদের ভূখণ্ড ব্যবহারের সুযোগ দিয়ে আন্তর্জাতিক বাধ্যবাধকতা লঙ্ঘন করেছে। সোমবার (১৩ এপ্রিল) জাতিসংঘে নিযুক্ত ইরানের স্থায়ী প্রতিনিধি আমির সাঈদ ইরাভানি জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস এবং নিরাপত্তা পরিষদের সভাপতির কাছে চিঠি পাঠিয়ে এই দাবি উত্থাপন করেন।
ক্ষতিপূরণ দাবিকৃত দেশগুলোর তালিকায় রয়েছে, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, কাতার ও জর্ডান। চিঠিতে ইরানি দূত উল্লেখ করেন, ইরানের ওপর মার্কিন-ইসরায়েলি হামলা পরিচালনায় এই দেশগুলো সরাসরি সহযোগিতা করেছে এবং এর ফলে সংঘটিত সকল যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতির দায় তাদের নিতে হবে। দেশটির সশস্ত্র বাহিনীর পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনের বরাতে দাবি করা হয়, এসব দেশের ভূমি ব্যবহার করেই আগ্রাসন চালানো হয়েছে এবং এর স্বপক্ষে প্রয়োজনীয় প্রমাণ ইতিমধ্যে নিরাপত্তা পরিষদে জমা দেওয়া হয়েছে।
ইরানের স্থায়ী প্রতিনিধি আরও জানান, পূর্ববর্তী প্রতিবেদনগুলোতেও বিষয়টি পরিষ্কার করা হয়েছে যে আগ্রাসীরা এই দেশগুলোর ভূখণ্ড ব্যবহার করে ইরানের বেসামরিক লক্ষ্যবস্তুতে অবৈধ হামলা চালিয়েছে। ফলে তেহরানের ওপর সংঘটিত সকল বস্তুগত ও নৈতিক ক্ষতির দায়ভার এই দেশগুলোকেই বহন করতে হবে।
ঘটনার সূত্রপাত গত ২৮ ফেব্রুয়ারি, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানের ওপর বড় ধরনের হামলা চালায়। এতে প্রাণহানি ও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির প্রেক্ষাপটে ইরানও পাল্টা জবাব হিসেবে ইসরায়েলসহ ইরাক, জর্ডান এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে হামলা চালায়। পরিস্থিতির ভয়াবহতা বিবেচনায় গত সপ্তাহে দুই সপ্তাহের একটি যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হয়।
সংকট নিরসনে গত রোববার পাকিস্তানের ইসলামাবাদে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদের মধ্যে দীর্ঘ বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও তা কোনো সমঝোতা ছাড়াই শেষ হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফিরিয়ে আনার প্রচেষ্টায় চলমান যুদ্ধবিরতির মধ্যে ইরানের এই ক্ষতিপূরণের দাবি ওই অঞ্চলে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সূত্র: আনাদোলু
ডিবিসি/এফএইচআর