চলতি সপ্তাহে সৌদি আরবের ওপর হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে পাকিস্তান। তেহরানকে তারা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, সৌদি আরবের ওপর হুথি হামলাকে খোদ পাকিস্তানের ওপর হামলা হিসেবেই গণ্য করা হবে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক পাকিস্তানি কর্মকর্তা রয়টার্সকে এ তথ্য জানিয়ে বিষয়টিকে নিজেদের 'রেড লাইন' বলে উল্লেখ করেছেন।
গত বছর সৌদি আরবের সাথে একটি পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করে পারমাণবিক অস্ত্রধারী দেশ পাকিস্তান। এই চুক্তির অধীনে এক পক্ষের ওপর যেকোনো আগ্রাসনকে অন্য পক্ষের ওপর আক্রমণ হিসেবে গণ্য করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়। দুজন পাকিস্তানি কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ইয়েমেনের সঙ্গে সৌদি সীমান্তে ইতোমধ্যে পাকিস্তানি সেনা মোতায়েন করা হয়েছে, যা সেনাদের সরাসরি ঝুঁকির মুখে ফেলেছে।
সোমবার নিজেদের নিয়ন্ত্রিত একটি বিমানবন্দরে বোমা হামলার অভিযোগে সৌদি আরবকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে হুথিরা। এর মধ্য দিয়ে চার বছরের যুদ্ধবিরতি ভেঙে গেলেও ঘটনাটি আপাতত একটির মধ্যেই সীমাবদ্ধ রয়েছে। তবে হুথি-নেতৃত্বাধীন সংঘাত আরও বাড়লে লোহিত সাগরে নৌচলাচল ব্যাহত হতে পারে বলে ইসলামাবাদ গভীরভাবে উদ্বিগ্ন, যা পাকিস্তানসহ অনেক দেশের জন্যই একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য পথ।
বিশ্লেষকদের মতে, উপসাগরীয় আরব রাষ্ট্রগুলো নিরাপত্তার নিশ্চয়তাকারী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর আস্থা হারিয়ে বিকল্প হিসেবে পাকিস্তান ও অন্যান্য দেশের দিকে ঝুঁকছে। গত সেপ্টেম্বরে হওয়া প্রতিরক্ষা চুক্তিটি এরই ইঙ্গিত দেয়। এছাড়া, গত মাসে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার একটি অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তিতেও মধ্যস্থতা করেছিল পাকিস্তান।
তেল ও গ্যাসের জন্য মধ্যপ্রাচ্যের ওপর গভীরভাবে নির্ভরশীল পাকিস্তান। হরমুজ প্রণালীকে ঘিরে সৃষ্ট উত্তেজনায় পাকিস্তানের সরবরাহ পথ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। জ্বালানি ঘাটতি মেটাতে সরকার নির্দিষ্ট সময়ের আগেই ব্যবসা-বাণিজ্য বন্ধ করে দেওয়ার মতো জরুরি পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পাকিস্তানের মধ্যস্থতার অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য ছিল এই সরবরাহ পথগুলো পুনরায় সচল করা।
পাকিস্তানি কর্মকর্তারা এখনও সব পক্ষকে তুষ্ট রাখার চেষ্টা করলেও, হুথিরা হামলার পরিধি বাড়ালে পরিস্থিতি বদলে যেতে পারে বলে সতর্ক করেছেন বিশ্লেষকরা। মধ্যস্থতা সম্পর্কে অবগত এক পাকিস্তানি সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছে, "যুদ্ধ শেষ হওয়াই সবার জন্য মঙ্গলজনক। কিন্তু সৌদি যদি আমাদের ডাকে, আমরা তাদের পাশে দাঁড়াবো এবং এ বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই।"
সূত্র: জিও নিউজ
ডিবিসি/পিআরএএন