ইয়েমেনে সংঘাতে সৌদি আরব যদি আরও সক্রিয়ভাবে জড়িয়ে পড়ে, তবে দেশটির সব তেল স্থাপনা ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার লক্ষ্যবস্তু হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন সংগঠনটির নেতা আবদুল মালিক আল-হুথি।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) টেলিভিশনে দেওয়া ভাষণে তিনি এ সতর্কবার্তা দেন।
এর আগে হুথিরা সৌদি আরবের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে। তাদের অভিযোগ, সোমবার হুথিদের নিয়ন্ত্রণাধীন একটি বিমানবন্দরে সৌদি বাহিনী বোমা হামলা চালিয়েছে। এই ঘটনার মধ্য দিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে প্রায় চার বছর ধরে চলা যুদ্ধবিরতি কার্যত ভেঙে যায়।
ইরান-সমর্থিত হুথিরা এর আগেও সৌদি আরবের জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা চালিয়েছে। ২০১৯ সালে তারা সৌদির দুটি গুরুত্বপূর্ণ তেল স্থাপনায় হামলার দায় স্বীকার করে। ওই হামলায় সাময়িকভাবে দেশটির অর্ধেকেরও বেশি অপরিশোধিত তেল উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়।
এ ছাড়া ২০২২ সালেও সৌদি আরবের জ্বালানি স্থাপনায় হামলা চালায় হুথিরা। সে সময় সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট জানায়, জেদ্দায় আরামকোর একটি পেট্রোলিয়াম পণ্য বিতরণকেন্দ্রে হামলা চালানো হলে সেখানে আগুন ধরে যায়।
ভাষণে আবদুল মালিক আল-হুথি বলেন, সানার বিমানবন্দরের বদলে রিয়াদের বিমানবন্দর, বিমানবন্দরের বদলে বিমানবন্দর, বন্দরের বদলে বন্দর এবং অবরোধের বদলে অবরোধ এটাই হবে বাস্তব সমীকরণ।
২০১৫ সালে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকারকে সমর্থন দিয়ে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট হস্তক্ষেপ করার পর থেকে দেশটিতে দীর্ঘস্থায়ী গৃহযুদ্ধ চলছে। এর আগে হুথিরা রাজধানী সানা দখল করে নেয়।
এক দশকের বেশি সময় ধরে চলা এই সংঘাত বিশ্বের অন্যতম ভয়াবহ মানবিক সংকটে রূপ নিয়েছে। বর্তমানে দেশটি কার্যত দুই ভাগে বিভক্ত এডেনে সৌদি-সমর্থিত সরকার এবং সানায় হুথি প্রশাসন।
সূত্র: রয়টার্স
ডিবিসি/এসএফএল