বিশ্বের অন্যতম পবিত্র ও সম্মানিত স্থান সৌদি আরবের পবিত্র কাবা শরিফের গিলাফ বা কিসওয়ার ক্যালিগ্রাফার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত বিখ্যাত শিল্পী মুখতার আলম শাকদার। জন্মসূত্রে সৌদি আরবের বাসিন্দা এই খ্যাতিমান ক্যালিগ্রাফার দীর্ঘদিনের আরবি হস্তলিপি চর্চা ও গবেষণার মাধ্যমে নিজেকে একজন অনন্য শিল্পী এবং শিক্ষক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।
কাবার গিলাফের মতো অত্যন্ত সম্মানিত ও পবিত্র নিদর্শনের ক্যালিগ্রাফির দায়িত্বে একজন বাংলাদেশির থাকাটা গোটা মুসলিম বিশ্বের কাছে এক বিশেষ গৌরবের বিষয়।
হারামাইন আর্কাইভের তথ্য অনুযায়ী, সারা বিশ্বে এই সম্মানজনক দায়িত্বপ্রাপ্তির গল্পটি শুরু হয়েছিল ১৪২২ হিজরিতে। ওই সময় জেদ্দার বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও ক্যালিগ্রাফার মুহাম্মাদ সালেম বাজনাইদের সঙ্গে মুখতার আলমের পরিচয় হয়। তাঁর ক্যালিগ্রাফির অসাধারণ দক্ষতা ও শৈলী দেখে মুগ্ধ হয়ে বাজনাইদ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে তাঁর নাম প্রস্তাব করেন।
এরপর মক্কার পবিত্র উম্মুল কুরা বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক বিশেষ পরীক্ষায় অংশ নিয়ে নিজের দক্ষতার প্রমাণ দিয়ে সফলভাবে উত্তীর্ণ হন মুখতার আলম। পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর ১৪২৩ হিজরির জমাদিউল আউয়াল মাসে (জুলাই ২০০২) তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে কাবা শরিফের কিসওয়া তৈরির কারখানায় ক্যালিগ্রাফার হিসেবে যোগ দেন।
দায়িত্ব গ্রহণের পরই মুখতার আলম প্রাচীন এই হস্তশিল্পে আধুনিক প্রযুক্তির চমৎকার সমন্বয় ঘটান। কিসওয়ার ক্যালিগ্রাফি পদ্ধতিতে বিশেষায়িত কম্পিউটারভিত্তিক ইলেকট্রনিক প্রোগ্রাম চালুর মাধ্যমে তিনি লেখার নিখুঁততা ও সার্বিক মানোন্নয়নে এক যুগান্তকারী ভূমিকা রাখেন। তবে কাজের ধরনে আধুনিকতা ও নতুনত্ব আনলেও কিসওয়ার মূল ঐতিহ্যবাহী নকশা থেকে তিনি কখনোই বিচ্যুত হননি।
কিসওয়ার বর্তমান নকশাটি মূলত বিখ্যাত ক্যালিগ্রাফার শাইখ আবদুর রহিম আমিন বুখারির তৈরি ‘সুলুস’ লিপির ওপর ভিত্তি করে রচিত। মুখতার আলম সেই শতবর্ষী ঐতিহ্য সযত্নে বজায় রেখে অক্ষরের আকার, প্রস্থ এবং বৃত্ত ও আয়তাকার নকশার অনুপাত আরও পরিমার্জন করেছেন। একই সঙ্গে কাবার দরজার পর্দা ও এর চারপাশের অলংকরণে যুক্ত করেছেন আরও সূক্ষ্ম ও নান্দনিক সৌন্দর্য, যা পবিত্র কাবাঘরের গাম্ভীর্যকে বহুগুণ বাড়িয়ে তুলেছে।
ডিবিসি/টিবিএ