মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার আবহে মিত্র দেশগুলোর নিরাপত্তা ও সামরিক সক্ষমতা বাড়াতে সৌদি আরব ও কুয়েতের জন্য মোট ২৪৪ কোটি ৪০ লাখ ডলারের অস্ত্র ও সামরিক সহায়তা প্যাকেজ বিক্রির অনুমোদন দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
বুধবার মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর এক বিবৃতিতে এই বিশাল অংকের চুক্তির কথা আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়। এর মধ্যে সৌদি আরবের জন্য ১ দশমিক ৯৬ বিলিয়ন (১৯৬ কোটি) ডলার এবং কুয়েতের জন্য ৪৮৪ মিলিয়ন (৪৮ কোটি ৪০ লাখ) ডলারের পৃথক প্যাকেজ রয়েছে।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মতে, প্রস্তাবিত এই বিপুল পরিমাণ অস্ত্র বিক্রি যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব পররাষ্ট্রনীতি ও জাতীয় নিরাপত্তার লক্ষ্যগুলোর সাথে সম্পূর্ণ সামঞ্জস্যপূর্ণ। ন্যাটোভুক্ত নয় এমন গুরুত্বপূর্ণ মিত্র হিসেবে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে স্থিতিশীলতা রক্ষায় সৌদি আরব তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
চুক্তির আওতায় সৌদি আরবকে ‘অ্যাডভান্সড প্রিসিশন কিল ওয়েপন সিস্টেম’ (APKWS-II)-এর সর্বোচ্চ ২০ হাজার গাইডেন্স ইউনিট সরবরাহ করা হবে। এর মধ্যে ১০ হাজার এয়ার-টু-এয়ার এবং ১০ হাজার এয়ার-টু-গ্রাউন্ড গাইডেন্স সেকশন রয়েছে। এছাড়া প্যাকেজটিতে লঞ্চার, ওয়ারহেড, রকেট মোটর, ফিউজ, খুচরা ও মেরামতের যন্ত্রাংশ, প্রযুক্তিগত নথিপত্র, প্রশিক্ষণ সরঞ্জাম এবং লজিস্টিক সহায়তা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এই বিশাল সমরাস্ত্র সরবরাহের মূল ঠিকাদার হিসেবে কাজ করবে যুক্তরাষ্ট্রের নিউ হ্যাম্পশায়ারের ন্যাশুয়া-ভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ‘বিএই সিস্টেমস’।
অন্যদিকে, ওয়াশিংটন কুয়েতের জন্য যে ৪৮৪ মিলিয়ন ডলারের প্যাকেজ অনুমোদন করেছে, তা মূলত সি-১৭ সামরিক পরিবহন বিমানের রক্ষণাবেক্ষণ ও প্রযুক্তিগত সহায়তার জন্য। এই প্যাকেজের অধীনে কুয়েতকে বিমানের প্রয়োজনীয় পার্টস ও অ্যাক্সেসরিজ, গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং সরঞ্জাম, যোগাযোগ সরঞ্জাম, সফটওয়্যার সাপোর্ট, প্রযুক্তিগত ডকুমেন্টেশন, ক্রুদের প্রশিক্ষণ এবং অন্যান্য লজিস্টিক পরিষেবা দেওয়া হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রচলিত আইন অনুযায়ী, প্রস্তাবিত এই দুটি বৈদেশিক সামরিক বিক্রয় চুক্তিই এখন মার্কিন কংগ্রেসের পর্যালোচনার মধ্য দিয়ে যাবে। কংগ্রেসের চূড়ান্ত অনুমোদনের পর চুক্তিগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে বাস্তবায়ন করা হবে, যা মিত্রদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও সামরিক লজিস্টিক সক্ষমতাকে আরও সুদৃঢ় করবে।
সূত্র: আনাদোলু
ডিবিসি/এমএনকে