আনোয়ারা মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্কুল ফিডিং কর্মসূচি চালুর পর থেকে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি, পুষ্টি ও শৃঙ্খলায় ব্যাপক ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে। সকাল সাড়ে ১০টা বাজতেই প্রাক-প্রাথমিক থেকে পঞ্চম শ্রেণির ৩৬৭ জন শিক্ষার্থী আনন্দ ও উচ্ছ্বাসের মধ্য দিয়ে টিফিনের খাবার গ্রহণ করছে।
সপ্তাহের পাঁচ দিনে সুনির্দিষ্ট খাদ্যতালিকায় বনরুটি, ডিম, দুধ, বিস্কুট ও কলা সরবরাহ করা হচ্ছে। খাবার শেষে শিক্ষার্থীরা সুশৃঙ্খলভাবে ময়লা নির্দিষ্ট বিনে ফেলায় তাদের মধ্যে পরিচ্ছন্নতার অভ্যাসও গড়ে উঠছে।
চট্টগ্রাম জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের তথ্য অনুযায়ী, পাইলট প্রকল্পের আওতায় আনোয়ারার ১১০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রায় ২২ হাজার শিক্ষার্থী বর্তমানে এই পুষ্টির সুফল পাচ্ছে।
প্রধান শিক্ষিকা রোমেনা আক্তার খানম জানান, এই কার্যক্রমের ফলে বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ৬৫-৭০ শতাংশ থেকে বেড়ে ৯০ থেকে ৯৫ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। অভিভাবকরাও এই উদ্যোগে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন এবং কর্মজীবী মায়েদের দুশ্চিন্তা অনেকটাই দূর হয়েছে। মাদার্স কমিটির মাধ্যমে প্রতিদিন খাবারের মান যাচাই করায় স্বচ্ছতাও বজায় থাকছে।
সারাদেশের প্রায় ১ কোটি ১০ লাখ প্রাথমিক শিক্ষার্থীকে ২০২৭ সালের জানুয়ারি থেকে পর্যায়ক্রমে এই মিড-ডে মিল কর্মসূচির আওতায় আনার লক্ষ্য নিয়েছে সরকার।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ জানিয়েছেন, পাইলট প্রকল্পের অভিজ্ঞতার আলোকে এবং শ্রীলঙ্কা ও তামিলনাড়ুর অভিজ্ঞতা অনুসরণ করে মায়েদের সম্পৃক্ততায় রান্না করা পুষ্টিকর খাবার সরবরাহের নতুন মডেল চালুরও পরিকল্পনা রয়েছে। এই যুগান্তকারী উদ্যোগ প্রাথমিক স্তরে ঝরে পড়া রোধ এবং শিক্ষাঙ্গনে অনুকূল পরিবেশ তৈরিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
ডিবিসি/এমএনকে