আন্তর্জাতিক

স্পেন ও ফ্রান্সে দাবানল পরিস্থিতির অবনতি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ডিবিসি নিউজ

১ ঘন্টা আগে
Facebook NewswhatsappInstagram NewsGoogle NewsYoutube

তীব্র তাপপ্রবাহের কবলে পড়েছে দক্ষিণ ইউরোপ। এর ফলে স্পেন ও ফ্রান্সে ভয়াবহ দাবানল ছড়িয়ে পড়েছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে হিমশিম খাচ্ছে কর্তৃপক্ষ।

ইউরোপজুড়ে একদিকে যেমন প্রচণ্ড গরম, অন্যদিকে বলকান অঞ্চলে দেখা দিয়েছে শিলাবৃষ্টি ও তীব্র ঝড়। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে মহাদেশটিতে এ ধরনের চরম আবহাওয়ার তীব্রতা বাড়ছে বলে সতর্ক করেছেন বিজ্ঞানীরা।

 

স্পেনের মধ্যাঞ্চলীয় গুয়াদালাজারা প্রদেশে এ বছরের সবচেয়ে বড় দাবানলে ইতোমধ্যে প্রায় ৩২ হাজার হেক্টর এলাকা পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। মঙ্গলবার থেকে পরিস্থিতি কিছুটা স্থিতিশীল হতে শুরু করায় নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া অনেক বাসিন্দা ঘরে ফিরতে শুরু করেছেন। স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ জানিয়েছেন, এ বছর দেশটিতে এখন পর্যন্ত ২২টি বড় দাবানলের ঘটনায় এক লাখ হেক্টরের বেশি এলাকা পুড়ে গেছে, যা গত এক দশকের বার্ষিক গড়ের সমান। স্পেনের আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, মূল ভূখণ্ডে দাবানলের ঝুঁকি এখনও অত্যন্ত বেশি। তীব্র তাপপ্রবাহের সাথে শুষ্ক বজ্রপাত এবং সাহারার ধুলো মিলে পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটাতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

 

ফ্রান্সেও দাবানল পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। দেশটির দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় ভার এলাকায় দাবানলে প্রায় আড়াই হাজার হেক্টর এলাকা পুড়ে গেছে এবং অন্তত ৪০০ মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে হেলিকপ্টারের পাশাপাশি কাজ করছেন প্রায় ১ হাজার ১০০ অগ্নিনির্বাপক কর্মী। এর আগে, মঙ্গলবার দক্ষিণ-পশ্চিম গিরোন্ডে অঞ্চলে আগুন নেভাতে গিয়ে ফায়ার সার্ভিসের দুই কর্মীর মৃত্যু হয়। দাবানলের ঝুঁকি এড়াতে এসব অঞ্চলে বারবিকিউ এবং ঐতিহ্যবাহী গ্রীষ্মকালীন আতশবাজি নিষিদ্ধ করেছে ফরাসি কর্তৃপক্ষ।

 

অন্যদিকে, তীব্র গরমের কারণে গ্রিস ও সাইপ্রাসে তাপমাত্রা ৪১ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে যাওয়ার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। ঝুঁকি এড়াতে দেশ দুটিতে দুপুরে কাঠফাটা রোদের সময় খোলা জায়গায় কাজ করা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এছাড়া নর্থ মেসিডোনিয়া ও কসোভোর মতো বলকান দেশগুলোতে প্রচণ্ড ঝড়ের সাথে শিলাবৃষ্টি আঘাত হেনেছে। নর্থ মেসিডোনিয়ার রাজধানী স্কোপজেতে গাছ উপড়ে এবং ছাদ ধসে অন্তত ১১ জন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা গুরুতর। বিদ্যুৎ ও পানি বিচ্ছিন্ন অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন অনেক এলাকার বাসিন্দা।

 

রয়টার্সের ক্লাইমেট মনিটরের তথ্যমতে, ২২ জুলাই পশ্চিম ইউরোপের গড় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ২৬.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসে দাঁড়িয়েছে, যা গত তিন দশকের স্বাভাবিক গড়ের চেয়ে ৩ ডিগ্রি বেশি। বিজ্ঞানীরা বলছেন, মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের কারণেই বিশ্বের সবচেয়ে দ্রুত উষ্ণ হতে থাকা এই মহাদেশটিতে বারবার তীব্র তাপপ্রবাহ, খরা, দাবানল ও আকস্মিক প্রলয়ঙ্করী ঝড় আঘাত হানছে।

 

সূত্র: রয়টার্স

 

ডিবিসি/ এসভিএন

আরও পড়ুন