নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামের সবুজ ঘাসে যখন রেফারির শেষ বাঁশি বাজল, তখন শুধু একটি ফুটবল ম্যাচেরই সমাপ্তি ঘটেনি; বরং স্পেনের প্রায় ৫০ মিলিয়ন বা ৫ কোটি মানুষের দীর্ঘদিনের লালিত এক সোনালি স্বপ্ন বাস্তবে রূপ নিল। দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপের মহাকাব্যিক ফাইনালে শক্তিশালী আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে বিশ্বজয়ের রাজমুকুট পরল লা রোহারা।
টুর্নামেন্টের শুরু থেকেই স্পেন তাদের চিরাচরিত ছন্দময় ফুটবল উপহার দিয়ে এসেছে। ফাইনালেও তার ব্যতিক্রম হয়নি। টানটান উত্তেজনা, আশা আর স্নায়ুচাপে ভরা এই লড়াইয়ে নির্ধারিত ৯০ মিনিট ছিল গোলশূন্য। লিওনেল মেসির জাদুকরী কোনো মুহূর্তের অপেক্ষায় থাকা লাখো আর্জেন্টাইন ভক্তকে স্তব্ধ করে দেয় স্পেনের জমাট রক্ষণভাগ।
অবশেষে, অতিরিক্ত সময়ের দ্বিতীয়ার্ধের একেবারে প্রথম মিনিটে স্পেনের দুর্দান্ত এক আক্রমণ থেকে জয়সূচক গোলটি করেন ফেরান তোরেস। তার এই জাদুকরী গোলেই ১-০ ব্যবধানের ঐতিহাসিক জয় নিশ্চিত হয়। স্পেনের নিখুঁত আর হাজার পাসের মোহনীয় ফুটবলের কাছে শেষ পর্যন্ত হার মানতে বাধ্য হয় আলবিসেলেস্তেরা।
গোল হওয়ার সাথে সাথেই মেটলাইফ স্টেডিয়ামে উপস্থিত হাজারো স্প্যানিশ সমর্থক বুনো উল্লাসে ফেটে পড়েন, অনেকেই আনন্দে কান্নায় ভেঙে পড়েন। লাল আর হলুদের সাগরে পরিণত হয় পুরো গ্যালারি। শুধু স্টেডিয়ামেই নয়, আটলান্টিকের ওপারে মাদ্রিদ থেকে শুরু করে বার্সেলোনা, সেভিয়া কিংবা ভ্যালেন্সিয়াপুরো স্পেন যেন এক হয়ে মেতে ওঠে বাঁধভাঙা উদযাপনে।
এই অভাবনীয় জয় শুধু মাঠে থাকা ১১ জন খেলোয়াড়ের নয়, বরং স্পেনের সেই ৫০ মিলিয়ন সাধারণ মানুষের, যারা দলের প্রতিটি পাসে, প্রতিটি শটে নিজেদের হৃদস্পন্দন গভীরভাবে অনুভব করেছেন।
শেষ বাঁশির সাথে সাথে মেসিদের টানা বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্নভঙ্গ হলেও, স্পেনের এই অবিস্মরণীয় জয় বিশ্ব ফুটবল ইতিহাসে এক নতুন স্বর্ণালি অধ্যায়ের সূচনা করল। মেটলাইফ স্টেডিয়ামের রাতের আকাশে যখন আতশবাজির ঝলকানি, তখন পুরো বিশ্ব অবাক বিস্ময়ে দেখল কীভাবে একটি দল অদম্য জেদ আর নিখুঁত শৈলী দিয়ে গোটা জাতির ৫০ মিলিয়ন স্বপ্নকে নিজের কাঁধে তুলে নিয়ে তা অক্ষরে অক্ষরে সত্যি করে দেখাল।
সূত্র: ইয়াহু স্পোর্টস
ডিবিসি/এমএনকে