বিবিধ

স্বাস্থ্য ক্যাডারে পদোন্নতি জট: বিধিমালা বনাম বাস্তবতা ও কতিপয় নেতার ‘স্বার্থের দেয়াল’

ডেস্ক নিউজ

ডিবিসি নিউজ

৮ ঘন্টা আগে
Facebook NewswhatsappInstagram NewsGoogle NewsYoutube

দেশের স্বাস্থ্যসেবা ও চিকিৎসা শিক্ষার মেরুদণ্ড হলো বিসিএস স্বাস্থ্য ক্যাডার। বর্তমানে এই ক্যাডারে প্রায় ৩৩ হাজার চিকিৎসক কর্মরত। এর মধ্যে বিসিএস-এর মাধ্যমে নিয়োগপ্রাপ্ত প্রায় ২৩ হাজার এবং প্রকল্প, অ্যাডহক ও পিএসসি’র সরাসরি নিয়োগের মাধ্যমে আসা আরও ১০ হাজার চিকিৎসক রয়েছেন। তবে এই বিশাল জনবল নিয়ে পরিচালিত স্বাস্থ্যখাতে পদোন্নতি নিয়ে সৃষ্টি হয়েছে চরম বিশৃঙ্খলা ও দীর্ঘসূত্রিতা।

বিধিমালার বৈষম্য ও প্রমার্জনা বিতর্ক–

বিসিএস এর মাধ্যমে নিয়োগকৃত চিকিৎসকদের চাকুরি স্থায়ী করণের জন্য বিভাগীয় পরীক্ষা, ফাউন্ডেশন ট্রেইনিং বাধ্যতামূলক হলেও প্রকল্প, এডহক এবং পিএসসি এর মাধ্যমে সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রে চাকুরি স্থায়ী করণের জন্য বিভাগীয় পরীক্ষা, ফাউন্ডেশন ট্রেইনিং কিছুই লাগেনা।


এছাড়া চিকিৎসক কর্মকর্তাদের বয়স পঞ্চাশ হলে চাকুরি স্থায়ী করণের জন্য বিভাগীয় পরীক্ষা, ফাউন্ডেশন ট্রেইনিং লাগে না এবং পদোন্নতির জন্য সিনিয়র স্কেল বাধ্যতামূলক নয়। চিকিৎসকদের পদোন্নতি বিধিমালা ১৯৮৬ সালের আইন থাকলেও পরবর্তীতে ২০১৭ সালে একটি আইনের মাধ্যমে পদোন্নতির ক্ষেত্রে সিনিয়র স্কেল বাধ্যতামূলক করা হয়। অথচ ২০১৭ সালে বিধি প্রণয়ের আগেই ২১ ও ২২ বিসিএস ব্যাচের কর্মকর্তাদের চাকুরির কর্মকাল ১৪ বছর পার হয়ে যায়। উল্লেখ্য একজন সরকারি চাকুরের বয়স ৫০ বছর পার হলে চাকুরি স্থায়ী করণের জন্য ডিপার্টমেন্টাল পরীক্ষা ও ফাউন্ডেশন ট্রেইনিং এবং পদোন্নতির ক্ষেত্রে সিনিয়র স্কেল বাধ্যতামূলক নয়।

 

টেকনিক্যাল ক্যাডার হিসেবে স্বাস্থ্য ক্যাডার অন্য ক্যাডার থেকে আলাদা–

টেকনিক্যাল ক্যাডার হিসেবে চিকিৎসকদের নিয়োগ থেকে শুরু করে পদোন্নতি সব কিছুই অন্য ক্যাডার থেকে আলাদা। চিকিৎসকদের সরকারি চাকুরিতে ঢোকার বয়স ৩২ বছর,  টেকনিকেল ক্যাডার হিসেবে চিকিৎসকেরা দরকারি চাকুরির শুরুতেই ২টি ইনক্রিমেন্ট বেশি পান। অন্য ক্যাডারের ক্ষেত্রে শুধু সিনিয়র স্কেল পদোন্নতির প্রধান শর্ত হলেও চিকিৎসকদের ক্ষেত্রে ১৯৮৬ সালের পদোন্নতি বিধি মোতাবেক পোষ্ট গ্র্যাজুয়েশন ডিগ্রি এবং সহযোগী অধ্যাপক পদের জন্য কমপক্ষে ৩টি ও অধ্যাপক পদের জন্য কমপক্ষে ৫টি প্রকাশনা থাকা প্রধান শর্ত। 

 

একদিকে পোষ্ট গ্র্যাজুয়েশন ডিগ্রি দুই ধরনের- একটি স্বল্প মেয়াদী ২ বছরের (ডিপ্লোমা) এবং আরেকটি দীর্ঘ মেয়াদী ৬-৮ বছর মেয়াদী(এমডি, এফসিপিএস)। অপরদিকে বিগত সরকারের আমলে পোষ্ট গ্র্যাজুয়েশন ডিগ্রির জন্য ট্রেইনিং পদ পাওয়া ছিল সোনার হরিনের মত। বিগত ১৭ বছর স্বাচিপপন্থী না হওয়ায় অনেকে উচ্চতর ট্রেইনিং পদ পেতে দেরি হয়েছে, আবার অনেকে রাজনৈতিক কারণে দূরে পোস্টিং থাকায় সময়মতো ফাউন্ডেশন ট্রেইনিং, ডিপার্টমেন্টাল পরীক্ষা ও সিনিয়র স্কেল পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারেননি বা পাশ করতে পারেন নি। অনেকে দীর্ঘমেয়াদি ডিগ্রি ও একের অধিক ডিগ্রি করতে গিয়ে সময়মত চাকরি স্থায়ীকরণ ও সিনিয়র স্কেল ১৪ বছরের মধ্যে পাশ করতে পারেন নি। অথচ টেকনিক্যাল ক্যাডার হওয়ায় চাকুরির প্রবেশের বয়সের মত সিনিয়র স্কেলের সময় সীমা ১৬-১৮ করা ছিল সময়ের দাবি।


সরকার প্রচলিত বিধির বাইরে ও সময়ের প্রয়োজনে শিক্ষা কার্যক্রম ধরে রাখার স্বার্থে প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে প্রমার্জনার মাধ্যমে পদোন্নতি দিয়ে থাকে। এতে চিকিৎসা সেবার ও শিক্ষার মান বৃদ্ধি হয়। প্রয়োজনীয় পদোন্নতি না পেলে স্বাস্থ্য সেবা ও স্বাস্থ্য শিক্ষা ব্যাহত হওয়ার ঝুঁকিতে থাকে তাই সরকার প্রচলিত বিধির বাইরেও সময়ের প্রয়োজনে সুপারনিউমারারি পদগুলো সৃষ্টি করে এবং উচ্চতর ডিগ্রি ও প্রকাশনা ঠিক থাকলে প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতির প্রমার্জনায় পদোন্নতি দিয়ে থাকেন।

 

প্রমার্জনায় দ্বিমুখী নীতি–

২০১১ সালের আগে চিকিৎসকদের সব পদোন্নতি পিএসসি'র মাধ্যমে হলেও দীর্ঘ সূত্রিতার কারণে বিগত সরকার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ৮০% পদোন্নতি ডিপিসি ও এসএসবি এর মাধ্যমে এবং পিএসসি এর মাধ্যমে ২০% সরাসরি নিয়োগের মাধ্যমে করার সিদ্ধান্ত নেয়। পিএসসি এর মাধ্যমে উচ্চতর পদে সরাসরি নিয়োগে যেকোন বিষয়ে একটি উচ্চতর ডিগ্রি, ৩-৬ টি প্রকাশনা থাকা বাধ্যতামূলক, সেখানে সিনিয়র স্কেলের কোন বিষয় নেই। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে পদোন্নতিতে উচ্চতর ডিগ্রি ও প্রকাশনার সাথে ২০১৭ সালে সিনিয়র স্কেল থাকার বিধি যোগ করা হয়। সেই সময় সরকার ২০১১ সালে উচ্চতর ডিগ্রি ও প্রকাশনাকে প্রাধান্য দিয়ে পদোন্নতির ক্ষেত্রে অন্যান্য বিষয়গুলো রাষ্ট্রপতির প্রমার্জনার সিদ্ধান্ত নেয়। সেই ধারাবাহিকতায় ২০১১ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত ফিডার পদ ও সিনিয়র স্কেলে ২০ বিসিএস পর্যন্ত রাষ্ট্রপতির প্রমার্জনা দিয়ে পদোন্নতি চলমান আছে। ২০১১ সালের একই প্রমার্জনায় ২০২৩ ও ২০২৪ সালেও ২১-২৪ বিসিএস পর্যন্ত সিনিয়র স্কেলে প্রমার্জনা দেয়া হয়েছে। এমনকি এবারও সুপার নিউমারারি পদোন্নতিতে ইউরোলজি বিষয়ে ২১ বিসিএস ব্যাচের এক কর্মকর্তাকে সিনিয়র স্কেলে প্রমার্জনা দেয়া হয়েছে।

 

সুপারনিউমারারি পদসৃজন, পদোন্নতি ও স্বার্থান্বেষী মহলের বাধা–

বিগত ১৭ বছর স্বাস্থ্য সেক্টরে প্রয়োজনীয় পদ তৈরি না হওয়ায় ২০২৪ সালের অক্টোবরে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে বিসিএস গাইনি ফোরাম ও বাংলাদেশ পেডিয়াট্রিক অ্যাসোসিয়েশন এর মানববন্ধনের মুখে বঞ্চিত চিকিৎসকদের জন্য সরকার শূন্য পদের বাইরে পদোন্নতিযোগ্য চিকিৎসক কর্মকর্তাদের নামের বিপরীতে আরও সাড়ে ৭ হাজার সুপার নিউমারারি পদ তৈরি করে। এ পদ তৈরিতে হেলথ ক্যাডার এসোসিয়েশন কোন অবদান না রাখলেও গুটিকয়েক স্বঘোষিত নেতা পদে পদে পদোন্নতিতে বাঁধা সৃষ্টি করছে। তারা হাইকোর্টে ২০২৪-২৫ সালে কয়েকটি মামলা করায় গত বছর সকল পদোন্নতি ঝুলে যায়। পরে কোর্ট সেই রিটে স্থগিতাদেশ দেয়ায় গত সেপ্টেম্বর মাস থেকে পুনরায় পদোন্নতির কার্যক্রম শুরু হয়। স্বাস্থ্য ক্যাডারের সুপারনিউমারারিসহ (অনুমোদিত পদের অতিরিক্ত) প্রায় সাড়ে সাত হাজার চিকিৎসকের পদোন্নতির প্রক্রিয়া চলমান। ইতোমধ্যে জুনিয়র কনসালট্যান্ট, সহকারী অধ্যাপক, সহযোগী অধ্যাপক এবং অধ্যাপকসহ সাড়ে পাঁচ হাজারের বেশি চিকিৎসকের পদোন্নতি হয়েছে।

 

২১-২৫ বিসিএস এর চিকিৎসকদের প্রমার্জনা বৈষম্য ও বঞ্চনা–

বর্তমানে চলমান সুপারনিউমারারি পদোন্নতিতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ২০১১ সালে করা রাষ্ট্রপতির কাছে লেখা সারসংক্ষেপে ১১-২০ বিসিএস পর্যন্ত সিনিয়র স্কেলে এবং ফিডার পদে অভিজ্ঞতার শর্ত প্রমার্জনা দিলেও ২১-২৫ বিসিএস এর চিকিৎসকদের সিনিয়র স্কেলে প্রমার্জনার ব্যাপারে নির্লিপ্ত ভূমিকা পালন করছে। এমনকি ২০ বিসিএস পর্যন্ত একই চিকিৎসককে একই আদেশে দুটি প্রমার্জনাও দেয়া হয়েছে। অথচ নামের বিপরীতে তৈরি এই সুপারনিউমারারি পদে পদোন্নতি দিলে কারও বঞ্চিত হবার কথা নয় এবং এক বছরের মধ্যে পদোন্নতি না দিলে পদগুলো বিলুপ্ত হয়ে যাবে। উল্লেখ্য, ২১-২৫ বিসিএস এর অনেক চিকিৎসক কর্মকর্তা ইতোমধ্যে চতুর্থ বা তৃতীয় গ্রেডে বেতন পান।

 

স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয়ের সিদ্ধান্তহীনতা–

২০১১ সালের সারসংক্ষেপে পিএসসি এর আদলে সিনিয়র স্কেল ছাড়া শুধু উচ্চতর ডিগ্রি ও প্রকাশনা দিয়ে পদোন্নতির জন্য বিধি পরিবর্তনের নির্দেশনা থাকলেও বিগত ১৪ বছর বিধি সংশোধনের উদ্যোগ নেয়া হয়নি। বর্তমানে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বিধি পরিবর্তনের উদ্যোগ নিলেও তথাকথিত হেলথ ক্যাডার অ্যাসোসিয়েশনের কতিপয় নেতারা সামাজিক মাধ্যমে মিথ্যা, বিদ্বেষমূলক তথ্য ছড়াচ্ছেন।

 

চিকিৎসকদের পদোন্নতির দীর্ঘ জটিলতা কাটাতে স্বাস্থ্যসংস্কার কমিশন ক্যাডার থেকে স্বাস্থ্যখাতকে আলাদা করে একটি কমিশনের অধীনে পদোন্নতি ও পদায়ন দেবার প্রস্তাব করলেও তথাকথিত হেলথ ক্যাডার অ্যাসোসিয়েশনের কতিপয় নেতাদের কারণে সেটি আর আলোর মুখ দেখেনি।

 

হেলথ ক্যাডার অ্যাসোসিয়েশনে দখলদারিত্ব ও বিদ্বেষমূলক কার্যক্রম–

২০১০ সালে অধ্যাপক ডা: সেলিম রেজা (অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান, ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগ, শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ) এবং অধ্যাপক ডা: নাজমুল হক (প্রাক্তন অধ্যাপক, নাক কান, গলা বিভাগ, ঢাকা মেডিকেল কলেজ) কর্তৃক BCS Health Cadre Association নামে ফেইসবুক গ্রুপটি গঠিত হয়। হেলথ ক্যাডার এসোসিয়েশনের প্রতিষ্ঠাকালীন কমিটি সমস্ত দায়িত্ব লিখিত ভাবে আহ্বায়ক কমিটির সভাপতি হিসেবে অধ্যাপক ডা. জাহিদ রায়হান (অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান, নিউরোসার্জারি বিভাগ, ঢাকা মেডিকেল কলেজ) ও সদস্য সচিব হিসেবে অধ্যাপক ডা. মো: শফিকুল ইসলাম, (শিশু বিভাগ, স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ, ঢাকা) স্যারের এর কাছে লিখিতভাবে অর্পণ করলেও ডা. মোহাম্মদ নেয়ামত হোসেন (২৪তম বিসিএস, স্বাস্থ্য) কর্মকর্তা, নিওনেটালজি (নবজাতক) ইউনিটের সহযোগী অধ্যাপক, ওএসডি, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, সংযুক্তি: শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ ও বিসিএস হেলথ ক্যাডার এসোসিয়েশনের স্বঘোষিত সভাপতি ও ডা: খালেদ আহমেদুর রহমান (২১তম বিসিএস, স্বাস্থ্য) কর্মকর্তা, সহযোগী অধ্যাপক, নিউরোসার্জারি বিভাগ, ঢাকা মেডিকেল কলেজও বিসিএস হেলথ ক্যাডার এসোসিয়েশনের স্বঘোষিত সেক্রেটারি বিভিন্ন কলা-কৌশলে অ্যাডমিন হিসেবে ফেইসবুক গ্রুপটি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখেছেন। 

 

তারা উক্ত ফেইসবুক গ্রুপের মাধ্যমে তিনি বিসিএস (স্বাস্থ্য) ক্যাডারের সদস্যদের লোভনীয় প্রস্তাব দিয়ে ১০,০০০ টাকার বিনিময়ে কতিপয় সদস্য সংগ্রহ করেন। তিনি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের জয়েন্ট স্টক থেকে সংগঠনটির রেজিস্ট্রেশন গ্রহণ করেছেন এবং নিজেকে উক্ত সংগঠনের সভাপতি দাবি করে দীর্ঘদিন যাবত অনলাইন (এডমিন হিসেবে বিতর্কিত পোস্ট এপ্রুভ, নামে-বেনামে সরকারের সমালোচনা করে পোস্ট, ব্যক্তিগত মানহানিকর পোস্ট) ও অফলাইনে স্বাস্থ্য ক্যাডারের বিভিন্ন পর্যায়ের চিকিৎসকদের মাঝে সমাজে বিভাজন, অস্থিরতা সৃষ্টি ও বিতর্ক তৈরি করে যাচ্ছেন। পদোন্নতি প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত করার উদ্দেশ্যে তিনি সরকারের বিভিন্ন আদেশের বিরুদ্ধে প্রায়শই আদালতের দ্বারস্থ হন। তাদের করা মামলার কারণে পদোন্নতি প্রক্রিয়া কিছুদিন বন্ধ ছিল, পরে মামলাগুলো আদালত কর্তৃক স্থগিতাদেশ দেওয়ায় বর্তমানে পুনরায় পদোন্নতির কার্যক্রম চলমান রয়েছে। তাদের মামলার কারণে অনেক স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন এবং বহু চিকিৎসক কাঙ্ক্ষিত পদোন্নতি না পেয়ে অবসরে চলে যেতে বাধ্য হয়েছেন। ডা. মোহাম্মদ নেয়ামত হোসেন ও ডা: খালেদ আহমেদুর রহমানের ব্যক্তিস্বার্থমূলক কর্মকাণ্ডের কারণে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাসহ তাদের কর্মস্থলের উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষ ও সহকর্মীরা বিক্ষুব্ধ।


উল্লেখ্য, স্বৈরাচারের দোসর হিসেবে তারা ধানমণ্ডি ৩২ নম্বর ও আওয়ামীলীগের কর্মসূচিতে তাদের কর্মকান্ডের ছবি নানান সময়ে সামাজিক মাধ্যমে ও কিছু প্রিন্ট মিডিয়ায় প্রকাশিত হয়েছে। শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. সাকি মোঃ জাকিউল আলম ও শিশু বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. আঈনুল ইসলাম খানের সাথে আলাপ প্রসঙ্গে জানা যায় ডা: নেয়ামত তার কর্মস্থলে প্রায়শই অনুপস্থিত থাকেন। এমনকি তার বিরুদ্ধে একটি বিভাগীয় মামলা রুজু হয়েছিল। বিগত আমলের অনিয়মের বিরুদ্ধে তিনি নিশ্চুপ থাকলেও বর্তমানে যখন স্বাস্থ্যমন্ত্রণালয় নিয়মতান্ত্রিক ও প্রশাসনিক সমাধানের উদ্যোগ নিচ্ছেন তখন তারা পদোন্নতি বাধাগ্রস্ত করতে হাইকোর্টে মামলা, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে ও দুদকে হেলথ ক্যাডার এসোসিয়েশনের নামে প্রতিনিয়ত চিঠি দিয়ে যাচ্ছেন।

 

বিগত ১৭ বছর সবধরনের একাডেমিক যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও অনেকেই ২০১১ সাল এবং ২০১৩ সাল ও ২০২৩ সালের ৩টি ডিপিসি'র একটিতেও পদোন্নতি বা প্রমার্জনা পায়নি। যখন বিএমএ বা স্বাচিপের সভাপতি বা মহাসচিবের সুপারিশে একই প্রার্থীকে বারবার (১১-২০ বিসিএস) রাষ্ট্রপতির প্রমার্জনা দিয়ে সহকারী অধ্যাপক, সহযোগী অধ্যাপক, অধ্যাপক পদে পদোন্নতি দেয়া হতো তখন এই তথাকথিত হেলথ ক্যাডার এসোসিয়েশনের নেতারা মুখে কুলুপ এঁটে বসে ছিলেন।

 

পদোন্নতি জটিলতা থেকে উত্তরণের পথ কী?

স্বাস্থ্য সংস্কার কমিশন চিকিৎসকদের পদোন্নতি ও পদায়নের জটিলতা কাটাতে স্বাস্থ্যখাতকে সাধারণ ক্যাডার সার্ভিস থেকে আলাদা করে একটি স্বাধীন কমিশনের অধীনে আনার প্রস্তাব করেছিল। কিন্তু ক্যাডার রাজনীতির যাঁতাকলে পড়ে সেই উদ্যোগও আলোর মুখ দেখেনি।


সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, চিকিৎসা শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং জনসেবা নিশ্চিত করতে হলে রাজনৈতিক সংকীর্ণতার ঊর্ধ্বে উঠে জ্যেষ্ঠতা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে প্রমার্জনা সুবিধা দিয়ে পদোন্নতি জট দ্রুত নিরসন করা প্রয়োজন। অন্যথায়, স্বাস্থ্য ক্যাডারে চলমান এই অস্থিরতা সামগ্রিক স্বাস্থ্যসেবা ও চিকিৎসা শিক্ষাকে হুমকির মুখে ফেলবে।

 

ডিবিসি/এএমটি

আরও পড়ুন