বিবিধ

স্বাস্থ্য খাত সংস্কার কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়ন নিয়ে আলোচনা

ডেস্ক প্রতিবেদন

ডিবিসি নিউজ

৪ ঘন্টা আগে
Facebook NewswhatsappInstagram NewsGoogle NewsYoutube

দেশে একটি জনমুখী ও জবাবদিহিতামূলক চিকিৎসাব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যে গঠিত স্বাস্থ্য খাত সংস্কার কমিশনের সদস্যবৃন্দ স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মোঃ সাখাওয়াত হোসেনের সাথে এক দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে মিলিত হয়েছেন। আজ বৃহস্পতিবার (২১ মে) সচিবালয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত এই বিশেষ সাক্ষাৎকারে কমিশনের তৈরি করা প্রতিবেদন ও তার বাস্তবায়নের রূপরেখা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।

সাক্ষাৎকারকালে অধ্যাপক ডা. এ কে আজাদ খানের নেতৃত্বে কমিশনের প্রতিনিধিদল স্বাস্থ্যমন্ত্রীর কাছে প্রতিবেদনটির বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। তারা জানান, দেশের সামগ্রিক স্বাস্থ্যব্যবস্থার দৃশ্যমান উন্নয়ন, চিকিৎসা সেবার জবাবদিহিতা, চিকিৎসক ও রোগীদের নিরাপত্তা এবং সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে এই কমিশন ভবিষ্যতেও সরকারকে সব ধরনের সহযোগিতা প্রদান করবে।

 

আলোচনায় উল্লেখ করা হয়, প্রতিবেদনটি প্রস্তুত করার ক্ষেত্রে দেশের চিকিৎসক, জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ, প্রশাসনিক কর্মকর্তা, গবেষক এবং মাঠপর্যায়ের স্বাস্থ্যকর্মীদের পাশাপাশি বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও অংশীজনদের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর স্থায়ী কমিটির পক্ষ থেকে যেসকল পরামর্শ ও সুপারিশ প্রদান করা হয়েছিল, তার বহু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এই প্রতিবেদনে স্থান পেয়েছে। 

 

কমিশনের সুপারিশমালার সাথে বিএনপির স্বাস্থ্য বিষয়ক ইশতেহারের উল্লেখযোগ্য সামঞ্জস্য রয়েছে। এর মধ্যে স্বাস্থ্য খাতের সংস্কার, ই-হেলথ কার্ড চালু, তামাক নিয়ন্ত্রণে সিন ট্যাক্স (পাপ কর) আরোপ, আর্থিক ও প্রশাসনিক ক্ষমতা বিকেন্দ্রীকরণ, দুর্নীতি দমন এবং একটি স্বাধীন 'বাংলাদেশ স্বাস্থ্য কমিশন' গঠনের প্রস্তাব অন্যতম।

 

এছাড়া এই প্রতিবেদনে পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপের (পিপিপি) মাধ্যমে ক্যান্সারসহ দুরারোগ্য ব্যাধির চিকিৎসা নিশ্চিত করা, ওষুধের মূল্য ও সহজলভ্যতার ওপর নিয়ন্ত্রণ, দেশে এপিআই (সক্রিয় ওষুধ উপাদান) ও ভ্যাকসিন তৈরি, ডিজিটাল স্বাস্থ্যব্যবস্থা চালুকরণ এবং আন্ডার গ্র্যাজুয়েট ও পোস্ট গ্র্যাজুয়েট মেডিকেল শিক্ষার মানোন্নয়নের কথা বলা হয়েছে। 

 

একই সাথে দেশের আপামর জনসাধারণের জরুরি চিকিৎসায় দেশব্যাপী অ্যাম্বুলেন্স ও জরুরি স্বাস্থ্যসেবা নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা, স্বাস্থ্য বীমা চালু, নারী স্বাস্থ্য সুরক্ষা, মানসিক ও শারীরিক প্রতিবন্ধী শিশুদের বিশেষ সেবা নিশ্চিতকরণ এবং চিকিৎসকদের কর্মক্ষেত্রের নিরাপত্তায় 'স্বাস্থ্য সুরক্ষা আইন' প্রণয়নের বিষয়ে প্রতিবেদনে জোর সুপারিশ করা হয়েছে।

 

কমিশনের সদস্যরা দেশের প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা (Primary Health Care) কাঠামোকে শক্তিশালী ও কার্যকর করতে স্বাস্থ্য খাতে সরকারি বাজেট বৃদ্ধির জোরালো আহ্বান জানান। তারা বলেন, প্রাথমিক স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে মজবুত করা সম্ভব হলে তৃণমূলের মানুষের প্রধান প্রধান রোগের চাপ যেমন কমবে, তেমনি রোগীদের চিকিৎসা ব্যয় হ্রাস পাবে এবং রাজধানীসহ বড় শহরগুলোর তৃতীয় পর্যায়ের (Tertiary) বিশেষায়িত হাসপাতালগুলোর ওপর অতিরিক্ত জনচাপ উল্লেখযোগ্যভাবে নেমে আসবে।

 

কমিশনের প্রস্তাবনা ও দাবির মুখে গভীর আশাবাদ ব্যক্ত করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মোঃ সাখাওয়াত হোসেন বলেন, দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার রূপান্তরের জন্য এসব সুপারিশ অত্যন্ত সময়োপযোগী। বর্তমান সরকার পর্যায়ক্রমে এই গুরুত্বপূর্ণ ও জনকল্যাণমুখী সুপারিশসমূহ বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করবে।

 

গুরুত্বপূর্ণ এই বৈঠকে স্বাস্থ্য খাত সংস্কার কমিশনের প্রধান অধ্যাপক ডা. এ কে আজাদ খান এবং কমিশনের সদস্য ও বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল অনকোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আকরাম হোসেন উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও কমিশনের অন্য সদস্যদের মধ্যে ড. মোহাম্মদ জাকির হোসেন, অধ্যাপক ড. লিয়াকত আলী, এম এম রেজা এবং ডা. আজহারুল ইসলামসহ অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা আলোচনায় অংশ নেন।

 

উল্লেখ্য, পূর্ববর্তী অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় দেশের চিকিৎসাব্যবস্থাকে সাজাতে এই ‘স্বাস্থ্য খাত সংস্কার কমিশন’ গঠন করা হয়েছিল এবং কমিশন মাঠপর্যায়ের সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে সরকারের নিকট তাদের চূড়ান্ত সুপারিশমালা ও প্রতিবেদনটি জমা দেয়।

 

ডিবিসি/টিবিএ

আরও পড়ুন