জেলার সংবাদ

ফেনীতে সড়ক দুর্ঘটনায় নাতনির মৃত্যুর খবর শুনে দাদির মৃত্যু, পরে জীবিত ফিরল নাতনি

ফেনী প্রতিনিধি

ডিবিসি নিউজ

৭ ঘন্টা আগে
Facebook NewswhatsappInstagram NewsGoogle NewsYoutube

সড়ক দুর্ঘটনায় নাতনির মৃত্যুর খবর শুনে শোক সইতে না পেরে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে খাইরুন নেছা (৯০) নামের এক বৃদ্ধার মৃত্যু হয়েছে। তবে পরে অলৌকিকভাবে অক্ষত অবস্থায় বাড়িতে ফিরে আসে তার নাতনি।

রবিবার (১৬ আগস্ট) সন্ধ্যায় ফেনীর দাগনভূঞা উপজেলার জায়লস্কর ইউনিয়নের উত্তর আলামপুর গ্রামে এ হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটে। পরে খাইরুন নেছাকে দাগনভূঞা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহত খাইরুন নেছা উত্তর আলামপুর গ্রামের সুতা ব্যাপারী বাড়ির বদিউর রহমানের স্ত্রী।


স্বজন ও স্থানীয়রা জানান, রবিবার বিকেলে সিলোনীয়া বাজার এলাকায় একটি মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় সিলোনীয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির এক ছাত্রী নিহত হয়। নিহতের নাতনি জান্নাতুল ফাহিমও একই বিদ্যালয়ের ছাত্রী। দুর্ঘটনার পর তাকে খুঁজে না পাওয়ায় পরিবারের সদস্যদের মধ্যে তার মৃত্যুর আশঙ্কা তৈরি হয়। একপর্যায়ে নাতনির মৃত্যুর খবর বাড়িতে পৌঁছালে শোকে ভেঙে পড়েন ৯০ বছর বয়সী দাদি খাইরুন নেছা। তিনি অচেতন হয়ে ঘরে লুটিয়ে পড়েন।
এর কিছুক্ষণ পর জান্নাতুল ফাহিমকে সুস্থ অবস্থায় খুঁজে পান স্বজনেরা। তাকে নিয়ে বাড়ি ফেরার পথেই তারা জানতে পারেন, দাদি অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। দ্রুত খাইরুন নেছাকে উদ্ধার করে দাগনভূঞা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলেও ততক্ষণে তার মৃত্যু হয়।


নিহতের ছেলে স্বপন মিয়া বলেন, অটোরিকশা চালিয়ে তিনি সংসার চালান। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে সিলোনীয়া বাজারে গিয়ে নিজের মেয়েকে খুঁজে না পেয়ে তিনি কান্নাকাটি করে বাড়িতে স্ত্রীকে বিষয়টি জানান। এ খবর শুনে তার মা নাতনির শোকে অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে মেয়েকে জীবিত অবস্থায় ফিরে পেলেও মাকে হারাতে হয়েছে বলে আক্ষেপ করেন তিনি।


দাগনভূঞা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ডা. ইফরাদ খন্দকার জানান, হাসপাতালে আনার আগেই খাইরুন নেছার মৃত্যু হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, নাতনির মৃত্যুর খবর শুনে তীব্র মানসিক আঘাতে নিজ বাড়িতেই তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান।


ডিবিসি/এসভিএন

আরও পড়ুন