হবিগঞ্জ মেডিকেল কলেজের হোস্টেলে কমনরুমের চাবি ও টেলিভিশন দেখা নিয়ে অভ্যন্তরীণ কোন্দলের জেরে দুই দল শিক্ষার্থীর মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ১০ জন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন।
বুধবার (১৯ আগস্ট) দিবাগত রাত দুইটার দিকে শহরের অনন্তপুর আবাসিক এলাকায় অবস্থিত কলেজটির হোস্টেলে এই ঘটনা ঘটে। এই সংঘর্ষের ফলে পুরো হোস্টেল চত্বরে চরম উত্তেজনা ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।
শিক্ষার্থী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গভীর রাতে হোস্টেলের কমনরুম খোলা এবং টিভি দেখা কেন্দ্র করে শিক্ষার্থী নাফিজ ও আশিষের মধ্যে প্রথমে কথা কাটাকাটি ও বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। মুহূর্তের মধ্যেই সেই বিরোধ দুই পক্ষের শিক্ষার্থীদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে এবং তা হাতাহাতি ও সংঘর্ষে রূপ নেয়। সংঘর্ষের সময় উভয় পক্ষের শিক্ষার্থীরা লোহার রড, ক্রিকেট স্টাম্পসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে একে অপরের ওপর চড়াও হন।
সংঘর্ষে নাফিজ, আশিষ, তাসরিফ আহমেদ, শরীফ উদ্দিন, রায়হান রাজ, সানি ও ফারদিন ইফতিসহ প্রায় ১০ জন শিক্ষার্থী গুরুতর ও সাধারণ আঘাত পান।
ঘটনার পরপরই অন্যান্য শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ধার করে দ্রুত হবিগঞ্জ জেলা সদর আধুনিক হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর অবস্থার অবনতি হওয়ায় গুরুতর আহত এক শিক্ষার্থীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
এদিকে, সংঘর্ষের খবর পেয়ে হবিগঞ্জ সদর মডেল থানা পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ বিষয়ে হবিগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদুল হক গণমাধ্যমকে জানান, খবর পাওয়ার পর পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানান তিনি।
ডিবিসি/এমএনকে