আন্তর্জাতিক, আমেরিকা

হরমুজকে যুক্তরাষ্ট্রের অংশ করার স্বপ্ন পূরণ হবে না ট্রাম্পের!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ডিবিসি নিউজ

২ ঘন্টা আগে
Facebook NewswhatsappInstagram NewsGoogle NewsYoutube

ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতের মধ্যে কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিকে যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ড হিসেবে ঘোষণা করার কথা বলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সম্প্রতি নিউইয়র্কের একটি পুলিশ একাডেমিতে দেওয়া বক্তব্যে তিনি দাবি করেন, ইরানকে পরাজিত করার পর খুব শিগগিরই এই জলপথটিকে যুক্তরাষ্ট্রের অংশ হিসেবে ঘোষণা করা হবে। একই সঙ্গে সেখানে নৌ অবরোধের কথা উল্লেখ করে তিনি ইঙ্গিত দেন যে প্রণালিটি কার্যত ওয়াশিংটনের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

তবে ট্রাম্পের এই বক্তব্যকে ‘অর্থহীন’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে তেহরান। দেশটির উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিবাবাদি এবং বিচার বিভাগের প্রধান স্পষ্ট জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ইরানের হাতে ছিল, আছে এবং থাকবে। কোনো আদেশ বা নির্বাচনী বক্তব্যের মাধ্যমে এই প্রণালি দখল করা সম্ভব নয়।

 

এদিকে আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রেসিডেন্টের একক বা একতরফা ঘোষণায় কোনো আন্তর্জাতিক ভূখণ্ডের মালিকানা বদলানো সম্ভব নয়। যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক সহকারী ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ব্রুস ফেইনের মতে, কোনো ভূখণ্ডকে যুক্ত করতে হলে মার্কিন সিনেটের অনুমোদিত চুক্তি বা কংগ্রেসের আইনের প্রয়োজন হয়; অন্যথায় এটি জাতিসংঘ সনদের আওতায় ‘আগ্রাসী যুদ্ধের অপরাধ’ হিসেবে গণ্য হতে পারে। সিডনির নিউ সাউথ ওয়েলস বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞ নাটালি ক্লেইনও উল্লেখ করেছেন যে, আন্তর্জাতিক আইনের দৃষ্টিতে এমন দাবির ভিত্তি পেতে হলে সংশ্লিষ্ট এলাকার ওপর দখলদার শক্তি হিসেবে পূর্ণ সামরিক নিয়ন্ত্রণ থাকতে হয়।

 

জাতিসংঘের সমুদ্র আইনবিষয়ক কনভেনশন বা ইউএনসিএলওএস অনুযায়ী, কোনো দেশই পুরো প্রণালির ওপর অবাধ সার্বভৌমত্ব দাবি করতে পারে না। ইরান ও ওমান তাদের নিজ নিজ উপকূল থেকে সর্বোচ্চ ১২ নটিক্যাল মাইল পর্যন্ত আঞ্চলিক জলসীমার ওপর অধিকার রাখে, যার মধ্যবর্তী অংশ আন্তর্জাতিক জলসীমা ও জাহাজ চলাচলের মুক্ত পথ হিসেবে বিবেচিত। তবে চলমান সংঘাতের কারণে প্রণালিটি কার্যত বন্ধ রেখেছে ইরান, যার বিপরীতে ইরানের বন্দরগুলোতে নৌ অবরোধ বজায় রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র।

 

অভ্যন্তরীণভাবেও ইরানে চলমান এই যুদ্ধ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। রয়টার্স/ইপসোসের এক জরিপ অনুযায়ী মাত্র ৩৫ শতাংশ মার্কিন নাগরিক এই যুদ্ধ সমর্থন করছেন। যুদ্ধের কারণে যুক্তরাষ্ট্রে সামরিক অস্ত্রের মজুত কমছে এবং পেট্রোলের দাম প্রতি গ্যালনে ৪ ডলার ছাড়িয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজকে মার্কিন ভূখণ্ড বানানোর ঘোষণাটি বাস্তবায়নযোগ্য কোনো পদক্ষেপ নয়, বরং প্রতিপক্ষকে চাপে রাখা এবং দেশের সমর্থকদের আকৃষ্ট করার রাজনৈতিক কৌশল মাত্র।

 

সূত্র: আলজাজিরা

 

ডিবিসি/এফএইচআর

আরও পড়ুন