আন্তর্জাতিক

হরমুজে জাহাজ চলাচল পুনরায় শুরু করতে নতুন জোট চায় যুক্তরাষ্ট্র

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ডিবিসি নিউজ

২ ঘন্টা আগে
Facebook NewswhatsappInstagram NewsGoogle NewsYoutube

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন হরমুজ প্রণালীতে নৌচলাচলের স্বাধীনতা পুনরুদ্ধার এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে একটি নতুন আন্তর্জাতিক সামরিক ও কূটনৈতিক জোট গঠনের জোরালো উদ্যোগ নিয়েছে।

‘মেরিটাইম ফ্রিডম কনস্ট্রাক্ট’ (এমএফসি) নামের এই বিশেষ জোট গঠনের জন্য বিশ্বের বিভিন্ন মিত্র দেশের অংশগ্রহণ চায় ওয়াশিংটন। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ইতিমধ্যে এই প্রস্তাবের অনুমোদন দিয়েছেন, যাকে স্টেট ডিপার্টমেন্ট এবং পেন্টাগনের একটি সমন্বিত যৌথ উদ্যোগ হিসেবে বর্ণনা করা হচ্ছে।

 

এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো মধ্যপ্রাচ্যের জন্য একটি সংঘাত-পরবর্তী সামুদ্রিক নিরাপত্তা কাঠামো প্রতিষ্ঠা করা, যা দীর্ঘমেয়াদী জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক অবকাঠামো রক্ষা এবং অত্যাবশ্যকীয় সমুদ্রপথগুলোতে নৌচলাচলের অধিকার বজায় রাখতে সাহায্য করবে। পররাষ্ট্র দপ্তরের এই উদ্যোগটি অংশীদার দেশ এবং বিশ্ব নৌপরিবহন শিল্পের মধ্যে একটি কেন্দ্রীয় কূটনৈতিক হাব হিসেবে কাজ করবে। অন্যদিকে, ফ্লোরিডায় অবস্থিত মার্কিন সেন্টকম সদর দপ্তর থেকে পেন্টাগন রিয়েল-টাইম সামুদ্রিক চলাচল সমন্বয় করবে এবং ওই প্রণালী অতিক্রমকারী জাহাজগুলোর সাথে সরাসরি যোগাযোগ রক্ষা করবে।

 

সংশ্লিষ্ট তারবার্তায় নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে, মার্কিন দূতাবাসগুলোকে আগামী ১ মে-র মধ্যে এই প্রস্তাবটি অংশীদার দেশগুলোর কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে পৌঁছে দিতে হবে। তবে রাশিয়া, চীন, বেলারুশ ও কিউবার মতো ওয়াশিংটনের প্রতিপক্ষ দেশগুলোকে এই জোটের বাইরে রাখা হয়েছে। অংশগ্রহণকারী দেশগুলো কূটনীতি, গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান, নিষেধাজ্ঞা প্রয়োগ কিংবা নৌবাহিনীর উপস্থিতি নিশ্চিত করার মাধ্যমে এই জোটে যুক্ত হতে পারবে। যুক্তরাষ্ট্র স্পষ্টভাবে জানিয়েছে যে, এই নতুন জোটে সম্পৃক্ত হওয়ার জন্য কোনো দেশকেই তাদের বিদ্যমান আঞ্চলিক সামুদ্রিক কাঠামো থেকে সম্পদ বা সরঞ্জাম সরিয়ে নেওয়ার প্রয়োজন নেই।

 

উল্লেখ্য যে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে শুরু হওয়া যুদ্ধের জেরে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে আছে। একসময় বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাস পরিবহনের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই পথেই সম্পন্ন হতো। বর্তমানে ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের জারি করা কঠোর নৌ অবরোধের ফলে সৃষ্ট অর্থনৈতিক ও কৌশলগত অচলাবস্থা নিরসনে এই নতুন আন্তর্জাতিক জোট গঠনকে ট্রাম্প প্রশাসনের একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশল হিসেবে দেখা হচ্ছে।
 

সূত্র: রয়টার্স

 

ডিবিসি/পিআরএএন

আরও পড়ুন