পারস্য উপসাগরে নিজেদের অন্যতম আধুনিক ও ব্যয়বহুল ‘এমকিউ-৪সি ট্রাইটন’ মডেলের একটি ড্রোন হারিয়েছে মার্কিন নৌবাহিনী। মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) নৌবাহিনীর সেফটি কমান্ডের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, ৯ এপ্রিল নিয়মিত অভিযান চলাকালে ড্রোনটি বিধ্বস্ত হয়েছে। তবে অভিযানের গোপনীয়তা ও নিরাপত্তার স্বার্থে এটি ঠিক কোথায় বিধ্বস্ত হয়েছে, তা সুনির্দিষ্টভাবে প্রকাশ করেনি পেন্টাগন।
ফ্লাইট ট্র্যাকিং ওয়েবসাইট ‘ফ্লাইট রাডার ২৪’-এর তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ড্রোনটি ইতালির সিগোনেলা নৌঘাঁটি থেকে ওড়ার পর পারস্য উপসাগরের আকাশে নিখোঁজ হয়। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালির ওপর দিয়ে ওড়ার সময় এটি হঠাৎ রাডার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।
ফ্লাইট ডাটা অনুযায়ী, বিধ্বস্ত হওয়ার আগে ড্রোনটি ৫০ হাজার ফুট উচ্চতা থেকে দ্রুত ৯ হাজার ফুটে নেমে আসে। এ সময় এটি ‘৭৪০০’ সংকেত পাঠাচ্ছিল, যা চালকের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্নের সংকেত হিসেবে পরিচিত। এর প্রায় ৭০ মিনিট পর ড্রোনটি জরুরি অবস্থার সংকেত বা ‘৭৭০০’ পাঠিয়ে ৯ হাজার ২৫০ ফুট উচ্চতায় থাকা অবস্থায় রাডার থেকে সম্পূর্ণ অদৃশ্য হয়ে যায়। মার্কিন নৌবাহিনী ড্রোনটি বিধ্বস্ত হওয়ার সত্যতা নিশ্চিত করলেও যান্ত্রিক ত্রুটি নাকি অন্য কোনো কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য দেয়নি।
নরথ্রপ গ্রামানের তৈরি এই ড্রোনটি বিশ্বের অন্যতম সেরা গোয়েন্দা ও নজরদারি বিমান হিসেবে পরিচিত। জেট ইঞ্জিনচালিত এই ড্রোনটি বিরতিহীনভাবে ২৪ ঘণ্টার বেশি আকাশে উড়তে সক্ষম। এটি মার্কিন নৌবাহিনীর অত্যন্ত বিরল এবং দামি সমরযন্ত্রের একটি, যা এ পর্যন্ত মাত্র ২০টি তৈরি করা হয়েছে। প্রতিটি ‘এমকিউ-৪সি ট্রাইটন’ ড্রোনের বাজারমূল্য প্রায় ২৪ কোটি ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২ হাজার ৮০০ কোটি টাকা), যা আধুনিক এফ-৩৫সি স্টিলথ যুদ্ধবিমানের দামের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। এই মূল্যবান ড্রোনটি হারানোর ফলে পারস্য উপসাগরে মার্কিন নজরদারি কার্যক্রমে বড় ধরনের ধাক্কা লেগেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সূত্র: সিএনএন
ডিবিসি/এফএইচআর