আন্তর্জাতিক

হরমুজে মার্কিন অবরোধের শঙ্কা, তেলের বাজারে অস্থিরতা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ডিবিসি নিউজ

৪ ঘন্টা আগে
Facebook NewswhatsappInstagram NewsGoogle NewsYoutube

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ অবসানের চুক্তি ব্যর্থ হওয়ার পর মার্কিন নৌবাহিনী হরমুজ প্রণালীতে অবরোধের প্রস্তুতি নিচ্ছে। এর ফলে ইরানের তেল সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হতে পারে—এমন আশঙ্কায় সোমবার বিশ্ববাজারে তেলের দাম লাফিয়ে লাফিয়ে বেড়ে ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে।

শুক্রবার ০.৭৫ শতাংশ কমার পর, ব্রেন্ট ক্রুড ফিউচারস ব্যারেল প্রতি ৭.৬০ ডলার বা ৭.৯৮ শতাংশ বেড়ে ১০২.৮০ ডলারে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে, ইউএস ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) আগের সেশনে ১.৩৩ শতাংশ কমার পর ৮.৩১ ডলার বা ৮.৬১ শতাংশ বেড়ে ১০৪.৮৮ ডলারে লেনদেন হচ্ছে।

এমএসটি মারকিউ (MST Marquee)-এর জ্বালানি গবেষণা প্রধান শৌল কাভোনিক বলেন, "বাজার এখন মূলত যুদ্ধবিরতির আগের অবস্থায় ফিরে গেছে। তবে পার্থক্য হলো, যুক্তরাষ্ট্র এখন হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাওয়া ইরানের অবশিষ্ট দৈনিক প্রায় ২০ লাখ ব্যারেল তেল সরবরাহও আটকে দেবে।"

 

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রবিবার বলেছেন, মার্কিন নৌবাহিনী হরমুজ প্রণালী অবরোধ শুরু করবে। ইরানের সাথে দীর্ঘ আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর এই পদক্ষেপ পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করেছে এবং দুই সপ্তাহের ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতিকে হুমকির মুখে ফেলেছে। তিনি আরও স্বীকার করেছেন যে, নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচন পর্যন্ত তেল ও গ্যাসোলিনের দাম চড়া থাকতে পারে। ছয় সপ্তাহ আগে ইরানে হামলার সিদ্ধান্তের সম্ভাব্য রাজনৈতিক নেতিবাচক প্রভাব সম্পর্কে এটি তার একটি বিরল স্বীকৃতি।

 

ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, মার্কিন বাহিনী সোমবার ইস্টার্ন টাইম সকাল ১০টায় (১৪০০ জিএমটি) ইরানের বন্দরগুলোতে প্রবেশ ও প্রস্থানকারী সকল সামুদ্রিক যান চলাচলে অবরোধ কার্যকর করা শুরু করবে।

 

এএনজেড (ANZ)-এর বিশ্লেষক ব্রায়ান মার্টিন এবং ড্যানিয়েল হাইন্স এক নোটে বলেছেন, "এটি কেবল পারস্য উপসাগরীয় তেল উৎপাদকদের রপ্তানিকেই সীমাবদ্ধ করবে না, বরং এটি ইরানের তেল রপ্তানির সক্ষমতাও কমিয়ে দেবে। এর ফলে বাজারে চলমান সরবরাহ সংকট আরও তীব্র হবে।"

 

আইজি (IG) মার্কেট বিশ্লেষক টনি সিকামোর বলেন, এই পদক্ষেপ কার্যকরভাবে ইরানের তেলের প্রবাহ বন্ধ করে দেবে। এর ফলে তেহরানের মিত্র ও ক্রেতারা প্রণালীটি পুনরায় খোলার জন্য প্রয়োজনীয় চাপ প্রয়োগ করতে বাধ্য হবে।

 

এদিকে, ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডস রবিবার জানিয়েছে যে, হরমুজ প্রণালীর দিকে কোনো সামরিক নৌযান আসার চেষ্টা করলে তা যুক্তরাষ্ট্রের দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি চুক্তির লঙ্ঘন বলে গণ্য করা হবে এবং এর কঠোর ও নিষ্পত্তিমূলক জবাব দেওয়া হবে।

 

এই অচলাবস্থা সত্ত্বেও, শনিবার তিনটি সুপারট্যাংকার সম্পূর্ণ তেল ভর্তি করে হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করেছে বলে শিপিং ডাটায় দেখা গেছে। গত সপ্তাহে যুদ্ধবিরতি চুক্তি হওয়ার পর উপসাগর থেকে বের হওয়া প্রথম জাহাজ বলে মনে করা হচ্ছে এদের। এলএসইজি (LSEG)-এর শিপিং ডাটা অনুযায়ী, সোমবার প্রণালীতে নোঙর করা একটি ইরান-পতাকাবাহী জাহাজ ছাড়া আর কোনো জাহাজের দেখা মেলেনি।

 

রবিবার সৌদি আরব জানিয়েছে যে, তারা ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইনের মাধ্যমে দৈনিক প্রায় ৭০ লাখ ব্যারেল তেল পাম্প করার সম্পূর্ণ সক্ষমতা পুনরুদ্ধার করেছে। ইরান সংঘাতের সময় হামলার কারণে জ্বালানি খাতে ক্ষয়ক্ষতির মূল্যায়ন প্রদানের কয়েকদিনের মধ্যেই রিয়াদ এই ঘোষণা দিল।

 

ডিবিসি/কেএলডি

আরও পড়ুন