আন্তর্জাতিক

১৯৮৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ভুলে হরমুজে ধ্বংস হয়েছিল ইরানের ফ্লাইট ৬৫৫!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ডিবিসি নিউজ

৩ ঘন্টা আগে
Facebook NewswhatsappInstagram NewsGoogle NewsYoutube

১৯৮৮ সালের ৩ জুলাই বিশ্ব আকাশসেবা খাতের ইতিহাসে এক মর্মান্তিক ট্র্যাজেডির জন্ম হয়। ইরান-ইরাক যুদ্ধের ডামাডোলে এদিন হরমুজ প্রণালির আকাশে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধজাহাজ থেকে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ধ্বংস হয় ইরানের যাত্রীবাহী উড়োজাহাজ ইরান এয়ার ফ্লাইট ৬৫৫। সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইগামী ওই এয়ারবাস এ-৩০০ উড়োজাহাজটিতে থাকা ৬৬টি শিশুসহ মোট ২৯০ জন আরোহীর সবাই মাঝ আকাশে প্রাণ হারান।

আশির দশকে টানা আট বছর ধরে চলা ইরান-ইরাক যুদ্ধের ওই সময়ে হরমুজ প্রণালিতে ব্যাপক উত্তেজনা বিরাজ করছিল। জ্বালানি তেল রপ্তানি বন্ধ করতে ইরান এই প্রণালিতে মাইন ও রকেট হামলা চালালে, যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তা এবং তেহরানকে চাপে রাখতে সেখানে ইউএসএস ভিনসেন্স নামের যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করে। অন্যদিকে ইরানও নিকটবর্তী বন্দর আব্বাস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সামরিক ও বেসামরিক কাজের জন্য এফ-১৪ যুদ্ধবিমান মোতায়েন রেখেছিল।

 

ঘটনার দিন সকালে হরমুজ প্রণালিতে একটি পাকিস্তানি ট্যাংকারকে কেন্দ্র করে ইরানের গানবোট ও মার্কিন যুদ্ধজাহাজের মধ্যে সংঘাত চলছিল। এই উত্তেজনার মধ্যেই সকাল ১০টা ১৭ মিনিটের নির্ধারিত ফ্লাইটের বদলে আধা ঘণ্টা দেরিতে, অর্থাৎ ১০টা ৪৭ মিনিটে বন্দর আব্বাস থেকে উড়াল দেয় ফ্লাইট ৬৫৫। দেশি-বিদেশি ২৭৪ জন যাত্রী ও ১৬ জন ক্রু ছিলেন ওই ফ্লাইটে। উড্ডয়নের পরপরই মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ইউএসএস ভিনসেন্সের রাডারে উড়োজাহাজটি ধরা পড়ে। মার্কিন নৌবাহিনীর দাবি, রাডারে সতর্কবার্তা পাঠানো হলেও ইরানি পাইলট তাতে সাড়া দেননি। নিচে যে যুদ্ধাবস্থা চলছে সে বিষয়েও পাইলটকে আগাম সতর্ক করা হয়নি। ফলে যুদ্ধজাহাজের ক্যাপ্টেন উইলিয়াম সি রজার্স ধীর গতির যাত্রীবাহী উড়োজাহাজটিকে হামলা করতে আসা এফ-১৪ যুদ্ধবিমান হিসেবে সন্দেহ করেন।

 

বিপদ এড়াতে ক্যাপ্টেন রজার্সের নির্দেশে যুদ্ধজাহাজটি থেকে দুটি ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়। উড্ডয়নের মাত্র ৭ মিনিটের মাথায় সকাল ১০টা ৫৪ মিনিটে একটি ক্ষেপণাস্ত্র সরাসরি আঘাত হানে অনুমোদিত বাণিজ্যিক বিমানপথে থাকা যাত্রীবাহী ওই উড়োজাহাজটিতে। টুকরো টুকরো হয়ে সাগরে ভেঙে পড়ে সেটি। পরবর্তীতে মার্কিন নৌবাহিনীর এক তদন্ত প্রতিবেদনে এই ঘটনাকে একটি মর্মান্তিক ও দুঃখজনক দুর্ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করা হয়। প্রথমদিকে আন্তর্জাতিক জলসীমায় এই ঘটনা ঘটেছে বলে যুক্তরাষ্ট্র দাবি করলেও পরে প্রমাণিত হয় উড়োজাহাজটি ইরানের আকাশসীমাতেই হামলার শিকার হয়েছিল।
 

ডিবিসি/এফএইচআর

আরও পড়ুন