কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে একটি মার্কিন সামরিক হেলিকপ্টার ভূপাতিত করার জন্য ইরানকে দায়ী করে কড়া জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মঙ্গলবার (৯ জুন) রাতে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানান। অথচ এর কয়েক ঘণ্টা আগেই তিনি ইরানের সঙ্গে একটি পারমাণবিক চুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন।
ট্রাম্প তাঁর পোস্টে জানান, সামরিক বাহিনী তাকে নিশ্চিত করেছে যে হরমুজ প্রণালিতে টহল দেওয়ার সময় ইরানিরা একটি অত্যাধুনিক মার্কিন অ্যাপাচি হেলিকপ্টার ভূপাতিত করেছে। তবে হেলিকপ্টারে থাকা দুই পাইলটই নিরাপদ ও অক্ষত আছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট জোর দিয়ে বলেন, যা-ই ঘটুক না কেন, এই হামলার জবাবে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া এখন অপরিহার্য। ট্রাম্পের এই ঘোষণার আগেই আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো মার্কিন সামরিক বাহিনীর বরাত দিয়ে ওমান উপকূলের কাছে একটি অ্যাপাচি হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হওয়া এবং পাইলটদের উদ্ধারের খবর প্রচার করেছিল।
হেলিকপ্টার ভূপাতিত হওয়ার এই ঘটনা এমন এক সময়ে ঘটল, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি পারমাণবিক চুক্তি প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে বলে স্বয়ং ট্রাম্প দাবি করেছিলেন। মঙ্গলবার দিনের বেলায় তিনি জানিয়েছিলেন, তারা একটি চমৎকার চুক্তির দ্বারপ্রান্তে আছেন, যা ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে দেবে না। চুক্তি স্বাক্ষরের দুই-তিন দিনের মধ্যেই হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া হবে এবং আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে ইরানের বিরুদ্ধে ‘চূড়ান্ত বিজয়’ ঘোষণা করা হতে পারে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেছিলেন।
জাতিসংঘে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত আমির সাইদ ইরাভানি জানিয়েছেন, চুক্তির চূড়ান্ত খসড়া নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান বর্তমানে পাকিস্তানের মাধ্যমে বার্তা বিনিময় করছে। তবে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই এই উত্তেজনার জন্য সরাসরি ওয়াশিংটনকে দায়ী করেছেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যেহেতু যুদ্ধবিরতি আলোচনার একটি পক্ষ, তাই যেকোনো উপায়ে এটি লঙ্ঘিত হলে তার দায়ভার ওয়াশিংটনের ওপরই বর্তাবে।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা শুরুর পর থেকে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ বহনকারী গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি বন্ধ রেখেছে তেহরান। গত রোববার রাত থেকে সোমবার সকাল পর্যন্ত ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে নতুন করে পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনা ঘটলেও ট্রাম্পের হস্তক্ষেপে তা আপাতত বন্ধ রয়েছে। তবে সাম্প্রতিক এই উত্তেজনার মধ্যেই ইসরায়েলের সেনাপ্রধান আইয়াল জামির কড়া ভাষায় জানিয়েছেন, নির্দেশ পেলে ইরানে আবারও জোরালো হামলা চালাতে ইসরায়েল পুরোপুরি প্রস্তুত রয়েছে।
সূত্র: আলজাজিরা
ডিবিসি/এফএইচআর