হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর হামলা বন্ধ এবং নিরাপদ জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করতে ইরানের কাছ থেকে দ্ব্যর্থহীন ও প্রকাশ্য প্রতিশ্রুতি চাইছে যুক্তরাষ্ট্র। এই জলপথের সংকট নিরসনে আলোচনা করতে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি শনিবার ওমানে পৌঁছেছেন। ওমান, কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় দুই দেশের মধ্যে একটি উচ্চপর্যায়ের ফোনালাপের প্রক্রিয়া চলছে।
এদিকে, গত সপ্তাহে ওমান উপসাগরে কাতার ও সৌদির তিনটি বাণিজ্যিক ট্যাংকারে হামলার ঘটনার পর পরিস্থিতি জটিল আকার ধারণ করেছে। ট্যাংকার হামলার পর যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর পাল্টা বিমান হামলা চালায় এবং একই সঙ্গে ইরানি অপরিশোধিত তেল বিক্রির অনুমোদনকারী লাইসেন্সটি প্রত্যাহার করে নেয়। এর জবাবে উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোতে পাল্টা হামলা চালায় ইরান।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শুক্রবার তার 'ট্রুথ সোশ্যাল' প্ল্যাটফর্মে জানান, সাম্প্রতিক সংঘাত বৃদ্ধি সত্ত্বেও ইরান আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার অনুরোধ করেছে এবং যুক্তরাষ্ট্র তাতে সম্মত হয়েছে। তবে ট্রাম্প স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, দুই পক্ষের মধ্যে পূর্বে স্বাক্ষরিত যুদ্ধবিরতি চুক্তির অবসান ঘটেছে।
মার্কিন গণমাধ্যম সিবিএস নিউজ ও ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, ওমানে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই আলোচনায় মার্কিন প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে থাকতে পারেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও, বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার। তবে ইরানের ফার্স নিউজ এজেন্সি একটি সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র তাদের অবস্থান থেকে সরে না আসা পর্যন্ত তেহরান কোনো আনুষ্ঠানিক আলোচনায় বসবে না। পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি এক্স-এ (সাবেক টুইটার) লিখেছেন, "কেবলমাত্র পারস্পরিক সম্মতিই কার্যকর হতে পারে।"
এর আগে শুক্রবার কাতারি মধ্যস্থতাকারীরা তেহরানে ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি, ইরান তাদের জানিয়েছে যে প্রণালীতে সাম্প্রতিক হামলাগুলো তাদের "সিস্টেমের একটি বিকল অংশের" কারণে ঘটেছে, যাকে উত্তেজনা প্রশমনের একটি ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।
সূত্র: রয়টার্স
ডিবিসি/পিআরএএন