আন্তর্জাতিক, আরব

হরমুজ প্রণালিতে ৫০০ কিলোমিটারের ‘অপারেশনাল ক্রিসেন্ট’ ঘোষণা আইআরজিসির

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ডিবিসি নিউজ

১ ঘন্টা আগে
Facebook NewswhatsappInstagram NewsGoogle NewsYoutube

হরমুজ প্রণালিতে ইরানের প্রতিরক্ষা সীমানার এক বড় ধরনের কৌশলগত সম্প্রসারণের ঘোষণা দিয়েছে ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) নৌবাহিনী। সংস্থাটি সতর্ক করে বলেছে, দেশের জলসীমা বা জাতীয় স্বার্থের ওপর কোনো ধরনের আঘাত তারা সহ্য করবে না।

আইআরজিসি নৌবাহিনীর রাজনৈতিক উপ-প্রধান রিয়ার অ্যাডমিরাল মোহাম্মদ আকবরজাদেহ মঙ্গলবার (১২ মে) জানান, ইরান এই কৌশলগত জলপথের কর্মক্ষম সীমানাকে মৌলিকভাবে নতুন করে সংজ্ঞায়িত করেছে।


তিনি বলেন, অতীতে হরমুজ প্রণালিকে হরমুজ এবং হেনগামের মতো দ্বীপগুলোর চারপাশের একটি সীমিত এলাকা হিসেবে দেখা হতো। কিন্তু আজ সেই পরিস্থিতি বদলে গেছে।


আকবরজাদেহ ব্যাখ্যা করেন, ইরান এখন প্রণালিটির পরিধি জাস্ক ও সিরিক উপকূল থেকে শুরু করে গ্রেটার টুনব দ্বীপের ওপাশ পর্যন্ত বিস্তৃত করেছে। তিনি একে একটি নতুন কৌশলগত অঞ্চল হিসেবে অভিহিত করেন।


আইআরজিসি-র এই শীর্ষ কর্মকর্তা আরও বলেন, সহজ কথায় বলতে গেলে, হরমুজ প্রণালি এখন আরও বড় হয়ে উঠেছে এবং এটি একটি বিশাল অপারেশনাল এলাকায় পরিণত হয়েছে। আগে যা ছিল মাত্র ২০ থেকে ৩০ মাইল প্রশস্ত, তা এখন ২০০ থেকে ৩০০ মাইল অর্থাৎ ৫০০ কিলোমিটারে সম্প্রসারিত হয়েছে। এটি এখন একটি পূর্ণাঙ্গ অর্ধচন্দ্রাকার বা অপারেশনাল ক্রিসেন্ট-এ পরিণত হয়েছে।


রিয়ার অ্যাডমিরাল আকবরজাদেহ জোর দিয়ে বলেন, সশস্ত্র বাহিনী এই অঞ্চলের সমস্ত গতিবিধি অত্যন্ত সতর্কতার সাথে পর্যবেক্ষণ করছে। তিনি আশ্বস্ত করে বলেন, ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান অত্যন্ত কর্তৃত্বের সাথে আঞ্চলিক সব পদক্ষেপের ওপর নজর রাখছে। আমাদের জলসীমা এবং জাতীয় স্বার্থে কোনো প্রকার অনুপ্রবেশের চেষ্টা সফল হতে দেওয়া হবে না।


তিনি দেশের সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখণ্ডতা রক্ষার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, আমরা রক্ত দেব, কিন্তু এক ইঞ্চি জমিও ছাড়ব না। দেশের মাটি ও পানি রক্ষায় সশস্ত্র বাহিনী তাদের সর্বশক্তি দিয়ে লড়াই করবে।


এদিকে ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী হরমুজ প্রণালিতে ইউরোপীয় দেশগুলোর যুদ্ধজাহাজ মোতায়েনের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। আইআরজিসি ঘোষণা করেছে যে, এই প্রণালি দিয়ে চলাচলের একমাত্র নিরাপদ পথ হবে ইসলামি প্রজাতন্ত্র কর্তৃক নির্ধারিত করিডোর। এই করিডোর থেকে বিচ্যুত হওয়া যেকোনো জাহাজের বিরুদ্ধে নিনায়ক প্রতিক্রিয়া জানানো হবে বলেও তারা সতর্ক করেছে।


গত মার্চের শুরুতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করার কয়েক দিন পর থেকেই তেহরান এই কৌশলগত জলপথটি শত্রু দেশগুলোর শিপিংয়ের জন্য বন্ধ করে দেয়। উল্লেখ্য, বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাস সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই হরমুজ প্রণালি দিয়েই পরিবাহিত হয়।
ইরান গত মাস থেকে তাদের নিয়ন্ত্রণ আরও কঠোর করেছে। মূলত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইরানি জাহাজ ও বন্দরগুলোর ওপর অবরোধ আরোপের ঘোষণা দেওয়ার পর তেহরান একে সামুদ্রিক জলদস্যুতা ও অবৈধ আখ্যা দিয়ে পাল্টা ব্যবস্থা গ্রহণ করে।


হরমুজ প্রণালির এই অচলাবস্থার কারণে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহে মারাত্মক বিঘ্ন ঘটেছে এবং তেলের বাজারে তীব্র অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। জানা গেছে, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে মার্কিন যুদ্ধজাহাজগুলো ইরানের নিয়ন্ত্রণ ভাঙার চেষ্টা করলে ইরানি বাহিনীর সরাসরি গুলিবর্ষণের মুখে তারা পিছু হটতে বাধ্য হয়।


সূত্র: প্রেস টিভি


ডিবিসি/এসএফএল

আরও পড়ুন