ইরানের আরোপিত নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে হরমুজ প্রণালি দিয়ে অবৈধভাবে পারাপারের চেষ্টাকালে একটি মার্কিন তেলবাহী ট্যাংকারকে ধাওয়া দিয়ে পিছু হটতে বাধ্য করেছে ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর নৌবাহিনী। বৃহস্পতিবার (২৮ মে) ইরানের একটি নির্ভরযোগ্য সামরিক সূত্রের বরাত দিয়ে দেশটির বার্তা সংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সি এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কয়েক ঘণ্টা আগে একটি মার্কিন তেলবাহী ট্যাংকার তার ট্র্যাকিং সিস্টেম বন্ধ করে দিয়ে হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করার চেষ্টা করছিল। তবে আইআরজিসি নৌবাহিনীর দ্রুত ও জোরালো পদক্ষেপ এবং জাহাজটিকে লক্ষ্য করে সতর্কতামূলক গুলি বর্ষণের পর, ট্যাংকারটি থামতে এবং পিছু হটতে বাধ্য হয়।
সামরিক সূত্রটি আরও জানায়, এই ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় মার্কিন বাহিনী বন্দর নগরী বন্দর আব্বাসের কাছে একটি খোলা জায়গায় গুলি চালায়। এর আগে ওই এলাকায় যে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গিয়েছিল, তা মূলত এই ঘটনার সাথেই সম্পর্কিত ছিল। স্থানীয় সূত্রগুলো বন্দর আব্বাসের পূর্ব দিক থেকে বিস্ফোরণের বিকট শব্দ পাওয়ার কথা জানিয়েছিল।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানকে লক্ষ্য করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি জোটের উস্কানিমূলক আগ্রাসন শুরুর পর, তেহরান তার শত্রু ভাবাপন্ন দেশ এবং তাদের মিত্রদের জন্য এই কৌশলগত জলপথটি বন্ধ করে দেয়।
পরবর্তীতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেই আগে ঘোষিত একটি যুদ্ধবিরতির শর্ত লঙ্ঘন করে ইরানি জাহাজ ও বন্দরগুলোর ওপর অবৈধ অবরোধের ঘোষণা দেন। এর পর থেকেই এই জলপথে নজরদারি ও নিয়ন্ত্রণ আরও জোরদার করে ইরান।
আইআরজিসি-এর নৌবাহিনী ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সৈয়দ মুজতবা খামেনির ঐতিহাসিক নির্দেশনা কঠোরভাবে বাস্তবায়নের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছে। পারস্য উপসাগর এবং হরমুজ প্রণালি নিয়ে দেওয়া ওই নির্দেশনায় আয়াতুল্লাহ খামেনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছিলেন, পারস্য উপসাগরকে লক্ষ্য করে অশুভ নীলনকশা নিয়ে আসা বিদেশিদের এই অঞ্চলে কোনো স্থান নেই, কেবল সমুদ্রের তলদেশ ছাড়া।
এর আগে গত ২০ মে, পারস্য উপসাগরের হরমুজ প্রণালি নিয়ন্ত্রণকারী ইরানি কর্তৃপক্ষ এই জলপথের জন্য একটি নির্দিষ্ট সুপারভাইজরি ম্যানেজমেন্ট জোন নির্ধারণ করে দেয়।
ঘোষিত সীমানা অনুযায়ী, প্রণালির পূর্ব দিকে ইরানের মাউন্ট মুবারক থেকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) দক্ষিণ ফুজাইরাহ এবং পশ্চিম দিকে ইরানের কেশম দ্বীপের শেষ প্রান্ত থেকে আমিরাতের উম্ম আল-কোয়াইন পর্যন্ত এলাকাটি ইরানের ব্যবস্থাপনা জোনের অন্তর্ভুক্ত।
ইসলামিক প্রজাতন্ত্র ইরানের নির্দেশনা মেনে এ পর্যন্ত আইআরজিসি-এর নৌবাহিনী এই জলপথ দিয়ে যাতায়াতের জন্য বেশ কিছু জাহাজকে পারাপারের অনুমতিপত্র ইস্যু করেছে।
সূত্র: প্রেস টিভি
ডিবিসি/এসএফএল