ওমানের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ ইরানের শক্তিশালী সশস্ত্র বাহিনী মেনে নেবে না বলে স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তেহরানের অন্তর্বর্তীকালীন জুমার নামাজের ইমাম। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এই প্রণালি সম্পূর্ণভাবে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত হবে।
চলতি সপ্তাহের জুমার নামাজের খুতবায় তেহরানের অন্তর্বর্তীকালীন খতিব হুজ্জাতুল ইসলাম মোহাম্মদ হাসান আবুতোরাবি-ফার্দ ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে স্বাক্ষরিত একটি সমঝোতা স্মারক লঙ্ঘনের প্রসঙ্গটি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, মার্কিন কর্মকর্তারা একতরফা পদক্ষেপ ও অপরাধমূলক হামলার মাধ্যমে এই সমঝোতার কাঠামো লঙ্ঘন করেছেন এবং চরম যুদ্ধাপরাধ সংঘটিত করেছেন।
তিনি মুসল্লিদের উদ্দেশে বলেন, "আপনাদের অবশ্যই সচেতন থাকতে হবে যে, এই সমঝোতা স্মারকটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ওপর বিশ্বাসের ভিত্তিতে তৈরি করা হয়নি।" তিনি আরও যোগ করেন, এই সমঝোতা প্রক্রিয়াটি ছিল মূলত 'প্রতিশ্রুতির বিপরীতে প্রতিশ্রুতি'। ইরান আজ নিজের জাতীয় স্বার্থ এবং এ অঞ্চলে তার মিত্রদের অধিকার রক্ষায় আগের চেয়ে অনেক বেশি সংকল্পবদ্ধ ও দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।
খতিব তার বক্তব্যে হরমুজ প্রণালীর ওপর সার্বভৌমত্ব প্রয়োগ এবং আঞ্চলিক দেশগুলোর স্বার্থে এর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য দেশের শক্তিশালী সশস্ত্র বাহিনী, সেনাবাহিনী এবং ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কর্পস-কে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান।
তিনি পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান স্পষ্টভাবে ঘোষণা করছে যে, কোনো অবস্থাতেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে হরমুজ প্রণালীর অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করতে দেওয়া হবে না।
এই জ্যেষ্ঠ ধর্মীয় নেতা দাবি করেন, গত চার মাসে সন্ত্রাসী মার্কিন সেনাবাহিনী হরমুজ প্রণালিকে ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ থেকে মুক্ত করার জন্য তাদের সর্বাত্মক ক্ষমতা ব্যবহার করেছে। কিন্তু প্রতিটি অভিযানে তাদের সেনাবাহিনী তিক্ত পরাজয়ের সম্মুখীন হয়েছে এবং ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির শিকার হয়েছে। গত ১২০ দিনে তারা যুদ্ধক্ষেত্রে কিছুই অর্জন করতে পারেনি এবং বর্তমানে এই অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ ও উদ্যোগ ইরান এবং 'প্রতিরোধ অক্ষ'-এর হাতে রয়েছে।
এরপর তিনি রাজধানী তেহরান, কোম, নাজাফ, কারবালা এবং মাশহাদে ইসলামি বিপ্লবের শহীদ নেতার জাঁকজমকপূর্ণ বিদায় ও জানাজার অনুষ্ঠানের কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, শহীদ নেতার মরদেহের এই বিদায় ও জানাজার আচার-অনুষ্ঠান আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইসলামি ইরান এবং প্রতিরোধ অক্ষের কর্তৃত্বের প্রমাণ দিয়েছে।
তিনি আরও বলেন, বিশ্বের স্বাধীনতাণ্ডকামী মানুষ, বিশেষ করে ইরান ও ইরাকের দুই ভ্রাতৃপ্রতিম জাতি বিদায় অনুষ্ঠানে এক অসাধারণ ও নজিরবিহীন মহাকাব্য সৃষ্টি করেছে।
সূত্র: মেহের নিউজ
ডিবিসি/এসএফএল