আন্তর্জাতিক, আরব

হরমুজ প্রণালির ব্যবস্থাপনা নিয়ে ইরান ও ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ফোনালাপ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ডিবিসি নিউজ

১ ঘন্টা আগে
Facebook NewswhatsappInstagram NewsGoogle NewsYoutube

কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালির ভবিষ্যৎ ব্যবস্থাপনা ও সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেছেন ইরান ও ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা। শুক্রবার (২৯ মে) এক ফোনালাপে দুই দেশের শীর্ষ কূটনীতিক চলমান আঞ্চলিক উত্তেজনার মধ্যে এই জলপথের আইনি ও প্রশাসনিক তদারকির বিষয়ে দ্বিপাক্ষিক আলোচনা করেন।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স (সাবেক টুইটার)-এ দেওয়া এক পোস্টে ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর বিন হামাদ আল বুসাইদির সাথে এই আলাপকে অত্যন্ত ফলপ্রসূ বলে অভিহিত করেছেন।


আরাগচি বলেন, আমরা আমাদের সার্বভৌমত্ব, দায়িত্ব এবং আন্তর্জাতিক আইন মেনে হরমুজ প্রণালি এবং এর ভবিষ্যৎ প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে আলোচনা করেছি। তিনি ওমানের সাথে ইরানের সংহতি প্রকাশ করে বলেন, প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোর সাথে যেকোনো ধরনের আলোচনা ও পরামর্শকে তেহরান স্বাগত জানায়।


এদিকে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আরাগচি ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে আশ্বস্ত করেছেন যে, হরমুজ প্রণালিতে নিরাপদ নৌচলাচল নিশ্চিত করতে তেহরান ও মাসকটের নেওয়া দায়িত্বশীল কৌশলগুলো আন্তর্জাতিক আইনের ওপর ভিত্তি করে তৈরি, যা বিশ্ব সম্প্রদায়ের স্বার্থ রক্ষা করবে।


সম্প্রতি ওমানের বিরুদ্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হুমকিূর্ণ বক্তব্যের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। গত বুধবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক বিবৃতিতে হুমকি দিয়ে বলেন, ওমান যদি হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ভাগাভাগি করতে ইরানের সাথে কাজ করার বিষয়ে সম্মত হয়, তবে ওমানকে উড়িয়ে দেওয়া হবে।


ট্রাম্পের এই মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই একে একটি স্বাধীন জাতিসংঘ সদস্য রাষ্ট্রকে ব্ল্যাকমেইল করার চেষ্টা হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, এটি মার্কিন শাসনব্যবস্থা ও নীতি নির্ধারণের নৈতিক দেউলিয়াত্বের আরেকটি বড় প্রমাণ।


ফোনালাপে আরাগচি পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান পরোক্ষ আলোচনার সর্বশেষ পরিস্থিতি তুলে ধরেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, মার্কিন পক্ষকে তাদের অতিরিক্ত দাবি ও বৈপরীত্যমূলক অবস্থান পরিহার করতে হবে, অন্যথায় কোনো চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব নয়।


উল্লেখ্য, কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় এবং ইরানের ১৪ দফা প্রস্তাবের ভিত্তিতে এই পরোক্ষ আলোচনা চলছে। এর মূল উদ্দেশ্য হলো মার্কিন-ইসরায়েলি চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধের অবসান ঘটানো, সমুদ্রে মার্কিন আগ্রাসন বন্ধ করা এবং ইরানের জব্দকৃত সম্পদ পুনরুদ্ধার করা। এর আগে গত ৮ এপ্রিল একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও ইরান অভিযোগ করেছে যে, ওয়াশিংটন একতরফাভাবে তা লঙ্ঘন করছে।


সূত্র: প্রেস টিভি


ডিবিসি/এসএফএল

আরও পড়ুন