ইরান যুদ্ধের প্রভাবে কার্যত অচল হয়ে পড়েছে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ ‘হরমুজ প্রণালি’। এর সরাসরি প্রভাবে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর জ্বালানি তেল রপ্তানিতে ধস নেমেছে। বাজার বিশ্লেষণী প্রতিষ্ঠান ‘কেপলার’-এর তথ্য অনুযায়ী, গত এক সপ্তাহে এই অঞ্চল থেকে তেল রপ্তানি প্রায় ৬০ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।
কেপলার জানায়, গত রবিবার থেকে পূর্ববর্তী এক সপ্তাহে মধ্যপ্রাচ্যের প্রধান আটটি দেশ- সৌদি আরব, কুয়েত, ইরান, ইরাক, ওমান, কাতার, বাহরাইন ও সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে প্রতিদিন গড়ে মাত্র ৯৭ লাখ ১০ হাজার ব্যারেল তেল রপ্তানি হয়েছে। অথচ চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসের একই সময়ে এই রপ্তানির পরিমাণ ছিল দৈনিক ২ কোটি ৫১ লাখ ৩০ হাজার ব্যারেল। পরিসংখ্যানে দেখা যাচ্ছে, মাত্র কয়েক সপ্তাহের ব্যবধানে রপ্তানি কমেছে প্রায় ১ কোটি ৫৪ লাখ ২০ হাজার ব্যারেল।
রপ্তানি বাধাগ্রস্ত হওয়ায় উত্তোলিত তেল এখন সাগরে ভাসমান ট্যাঙ্কারগুলোতে মজুত করে রাখতে হচ্ছে। কেপলারের বিশ্লেষক জোহানেস রাবল এক বিবৃতিতে জানান, “চলতি সপ্তাহে মধ্যপ্রাচ্যের অপরিশোধিত তেলের ভাসমান মজুত ৫ কোটি ব্যারেল ছাড়িয়ে গেছে। যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে এই মজুতের পরিমাণ ছিল মাত্র ১ কোটি ব্যারেলের কাছাকাছি।”
হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বের মোট চাহিদার এক-পঞ্চমাংশ জ্বালানি তেল সরবরাহ করা হয়। যুদ্ধাবস্থার কারণে এই পথটি কার্যত বন্ধ থাকায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সরবরাহ লাইনে এই দীর্ঘসূত্রতা বজায় থাকলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পেতে পারে, যার প্রভাব পড়বে বিশ্ব অর্থনীতিতে।
ডিবিসি/এসএফএল