ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি ঘোষণা করেছেন, চলমান যুদ্ধবিরতির অবশিষ্ট সময়ের জন্য হরমুজ প্রণালি বাণিজ্যিক জাহাজের চলাচলের জন্য সম্পূর্ণ উন্মুক্ত করে দেয়া হয়েছে।
শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) নিজের এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে আরাগচি বলেন, “লেবাননে যুদ্ধবিরতির সাথে সামঞ্জস্য রেখে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে সকল বাণিজ্যিক জাহাজের যাতায়াত যুদ্ধবিরতির বাকি সময়ের জন্য সম্পূর্ণ উন্মুক্ত ঘোষণা করা হলো। ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের বন্দর ও সামুদ্রিক সংস্থা কর্তৃক আগে ঘোষিত সমন্বিত রুট অনুযায়ী এই চলাচল কার্যকর হবে।”
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সৈয়দ আলী খামেনি এবং বেশ কয়েকজন সামরিক কমান্ডারকে হত্যার পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে ব্যাপক সামরিক অভিযান শুরু করে। এর জবাবে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী গত ৪০ দিন ধরে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন ও ইসরায়েলি সামরিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে ধারাবাহিক পাল্টা আক্রমণ চালায়।
দ্রুত বিজয়ের প্রত্যাশা থাকলেও, ইরানের এই পাল্টা আক্রমণ মার্কিন ও ইসরায়েলি সম্পদের উল্লেখযোগ্য ক্ষতি সাধন করে, যা সংঘাতকে দীর্ঘস্থায়ী এবং আঞ্চলিক উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে তোলে।
অস্থিতিশীলতা কমাতে গত ৮ এপ্রিল পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় দুই সপ্তাহের একটি যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হয়, যাতে ইসলামাবাদে বসে আলোচনার সুযোগ তৈরি হয়। এই আলোচনায় ইরান একটি ১০ দফা পরিকল্পনা পেশ করে, যার মধ্যে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার, ইরানের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির ওপর নিয়ন্ত্রণ রক্ষার দাবি জানানো হয়।
পাকিস্তানে মার্কিন প্রতিনিধিদের সাথে টানা ২১ ঘণ্টার নিবিড় আলোচনা সত্ত্বেও কোনো চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। মার্কিন পক্ষের রাজনৈতিক দোদুল্যমানতা এবং আস্থার অভাবের কথা উল্লেখ করে ইরানি প্রতিনিধি দল তেহরানে ফিরে আসে। তবে চুক্তিতে পৌঁছাতে না পারলেও, বর্তমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদের শেষ পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত রাখার সিদ্ধান্ত নিল তেহরান।
সূত্র: তাসনিম নিউজ
ডিবিসি/এসএফএল