পারস্য উপসাগরের কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাপান সংশ্লিষ্ট আরও বেশি জাহাজ চলাচলের অনুমতি দিতে ইরান কাজ করবে বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির সঙ্গে এক ফোনালাপে তিনি এই আশ্বাস দেন। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি আগ্রাসন শুরুর পর থেকে এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথটির ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করে রেখেছে তেহরান।
সোমবার (১ জুন) জাপানি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ফোনালাপে প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান বলেন, ইরান হরমুজ প্রণালি দিয়ে পণ্যবাহী কার্গো পরিবহন সহজ করতে প্রস্তুত। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, পারস্য উপসাগরে স্বাভাবিক নৌচলাচল পুনরুদ্ধারের ক্ষেত্রে প্রধান বাধা মূলত ইরানের সামুদ্রিক বাণিজ্যের ওপর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত নিষেধাজ্ঞা।
অবশ্য ইরানের প্রেসিডেন্ট স্পষ্ট করেছেন যে, জাপানের মালিকানাধীন বা দেশটির সঙ্গে যুক্ত জাহাজগুলোর চলাচলের ওপর থেকে কড়াকড়ি শিথিল করতে ইরান গুরুত্বের সঙ্গে প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। ইরানের প্রেসিডেন্ট কার্যালয় থেকে প্রকাশিত বক্তব্য অনুযায়ী পেজেশকিয়ান বলেন, আমরা এটি নিশ্চিত করার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করব যেন জাপানি জাহাজগুলো এই রুট দিয়ে সুচারুভাবে এবং আরও সহজে চলাচল করতে পারে।
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ইরান হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের ওপর থেকে পর্যায়ক্রমে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করছে। শত্রুভাবাপন্ন দেশগুলো যেন এই প্রণালি ব্যবহার করতে না পারে, সেজন্য তেহরান একটি নতুন কর্তৃপক্ষ গঠন করেছে, যা মূলত জাহাজ ও তাদের মালামাল যাচাই-বাছাইয়ের কাজ করছে।
ইরান ইঙ্গিত দিয়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি চুক্তির অংশ হিসেবে তারা হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি খুলে দিতে প্রস্তুত; যার বিনিময়ে ইরানের ওপর থেকে সমস্ত নিষেধাজ্ঞা ও অবরোধ প্রত্যাহার করতে হবে এবং এই অঞ্চলে ইরান ও তার মিত্রদের বিরুদ্ধে মার্কিন-ইসরায়েলি আগ্রাসনের স্থায়ী অবসান ঘটাতে হবে।
ফোনালাপে প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান আরও বলেন, নিষেধাজ্ঞার কারণে পূর্ব এশিয়ার দেশটিতে (জাপান) আটকে থাকা ইরানের অর্থ ও সম্পদ ছাড় করানোর বিষয়ে জাপান কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে তেহরান আশা করে। এই আটকে থাকা অর্থ দিয়ে ইরান নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য, চিকিৎসা সরঞ্জাম এবং ওষুধ কিনতে চায় বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
অন্যদিকে, জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি বলেন, পারস্য উপসাগরের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে জাপান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা করেছে। তিনি বিশ্বাস করেন, উত্তেজনা হ্রাস এবং বিরোধ নিষ্পত্তির একমাত্র পথ হলো কূটনীতি ও সংলাপ।
পাশাপাশি, সামুদ্রিক রুটের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য ইরানের প্রতি ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন জাপানি প্রধানমন্ত্রী। এর ফলে জাপানি জাহাজগুলো সফলভাবে হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করতে পারছে উল্লেখ করে তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, আগামীতে সব ধরনের বাণিজ্যিক জাহাজ এই কৌশলগত রুটটি দিয়ে নির্বিঘ্নে চলাচল করতে পারবে।
সূত্র: প্রেস টিভি
ডিবিসি/এসএফএল