আন্তর্জাতিক

হরমুজ প্রণালি সংকটে তেলের বাজারে অস্থিরতা: ব্যারেল প্রতি দাম ১৫০ ডলার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ডিবিসি নিউজ

৮ ঘন্টা আগে
Facebook NewswhatsappInstagram NewsGoogle NewsYoutube

ইরান ও ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চলমান যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের বাজারে ভয়াবহ অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে। এর ফলে ইউরোপ ও এশিয়ার শোধনাগারগুলো কিছু নির্দিষ্ট গ্রেডের অপরিশোধিত তেলের জন্য ব্যারেল প্রতি প্রায় ১৫০ ডলার পর্যন্ত দাম দিচ্ছে, যা ইতিহাসের সর্বোচ্চ।

ইরানের ওপর ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের প্রতিক্রিয়ায় তেহরান কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দিয়েছে। এর ফলে মধ্যপ্রাচ্য থেকে প্রতিদিন প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ (১২ মিলিয়ন) ব্যারেল তেলের সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে। এটি বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় ১২ শতাংশ। এই বিশাল ঘাটতিই মূলত বাজারকে অস্থিতিশীল করে তুলেছে।


বাজারে বর্তমানে পেপার ফিউচার বা কাগজের চুক্তির তুলনায় বাস্তব বা ফিজিক্যাল তেলের দাম অনেক বেশি বেড়ে গেছে। গত মাসে ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের ফিউচার মূল্য ব্যারেল প্রতি ১১৯.৫০ ডলারে পৌঁছেছিল, যা ২০২২ সালের পর সর্বোচ্চ। যদিও এটি ২০০৮ সালের রেকর্ড ১৪৭.৫০ ডলারকে স্পর্শ করেনি, তবে বাস্তব বাজারে সরবরাহের ঘাটতি থাকায় শোধনাগারগুলো অনেক বেশি দামে তেল কিনতে বাধ্য হচ্ছে।


বাজার বিশ্লেষকদের মতে, কাগুজে দরের চেয়ে বাস্তব বাজারে তেলের হাহাকার বেশি। আগামী জুন মাসের সরবরাহের জন্য ব্রেন্ট ক্রুডের যে চুক্তি হচ্ছে, তার চেয়ে তাৎক্ষণিক সরবরাহের তেলের দাম অনেক বেশি চড়া।


মধ্যপ্রাচ্যের তেল আসা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এশিয়া ও ইউরোপের তেল শোধনাগারগুলোর মধ্যে চরম প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে। তারা এখন বিকল্প হিসেবে ইউরোপ ও আফ্রিকার দেশগুলো থেকে দ্রুত তেল পাওয়ার চেষ্টা করছে। এই বাড়তি চাহিদার চাপে ওই অঞ্চলের তেলের দামও রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে।


পরিস্থিতি এভাবে চলতে থাকলে বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের মুদ্রাস্ফীতির আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। হরমুজ প্রণালি দ্রুত খুলে দেওয়া না হলে জ্বালানি সংকট আরও ঘনীভূত হতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে।


সূত্র: আল জাজিরা


ডিবিসি/এসএফএল

আরও পড়ুন